কলকাতা ডে ট্যুর | গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ | বাংলার সেরা গন্তব্য | তরুণ ট্রাভেলার গাইড

কলকাতা ডে ট্যুর — উত্তাপের মাঝেও এক অনন্য অভিজ্ঞতা
গ্রীষ্মকাল মানেই তীব্র রোদ, ঘাম আর গরম হাওয়া। কিন্তু তাই বলে কি কলকাতা ঘোরার আনন্দ থেমে থাকে? মোটেও না! কলকাতা — এই মহানগরী যেন সারাবছরই তার বুকে ধারণ করে থাকে একটা অদ্ভুত জীবন্ত স্পন্দন। হলুদ ট্যাক্সি, পাড়ার চায়ের ঠেক, পুরনো ঔপনিবেশিক স্থাপত্য, রাস্তার ঝালমুড়ি — সব মিলিয়ে কলকাতা একটা আলাদা অভিজ্ঞতা।
তুমি যদি একজন তরুণ ভ্রমণকারী হও এবং মাত্র একটা দিনে কলকাতার সেরাটা উপভোগ করতে চাও, তাহলে এই গাইডটা তোমার জন্যই লেখা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটা পারফেক্ট ইটিনারেরি তৈরি করা হয়েছে — বাজেট-ফ্রেন্ডলি, স্মার্ট ট্রানজিট সহ এবং গ্রীষ্মের গরম মাথায় রেখে।
গ্রীষ্মে কলকাতা ভ্রমণের আগে যা জানতে হবে
আবহাওয়া ও সতর্কতা
মে-জুন মাসে কলকাতার তাপমাত্রা ৩৮°C থেকে ৪৪°C পর্যন্ত উঠতে পারে। আর্দ্রতাও থাকে অনেক বেশি। তাই গ্রীষ্মে কলকাতায় ঘোরার সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখতেই হবে:
- সকাল সকাল বেরোও: সকাল ৭টার মধ্যে বের হলে বেলা ১১টা পর্যন্ত তুলনামূলক সহনীয় আবহাওয়া পাবে।
- হালকা রঙের সুতির পোশাক পরো।
- জলের বোতল সঙ্গে রাখো এবং বারবার ডাবের জল বা লেবু শরবত খাও।
- সানস্ক্রিন ও সানগ্লাস অপরিহার্য।
- দুপুর ১২টা থেকে ৩টা — এই সময়টায় কোনো শীতাতপনিয়ন্ত্রিত জায়গায় বিশ্রাম নাও।
বাজেট প্ল্যানিং
একটি আদর্শ কলকাতা ডে ট্যুরের জন্য মাথা পিছু খরচ মোটামুটি:
- পরিবহন: ₹১৫০–₹২৫০ (মেট্রো + বাস + অটো)
- খাওয়া-দাওয়া: ₹৩০০–₹৫০০
- প্রবেশমূল্য ও অন্যান্য: ₹১০০–₹২০০
- মোট: ₹৫৫০–₹৯৫০
কলকাতা সত্যিই ভারতের অন্যতম বাজেট-ফ্রেন্ডলি শহর।
সকাল ৭টা — ভোরের কলকাতায় হাওড়া ব্রিজ
প্রথম গন্তব্য: রবীন্দ্র সেতু (হাওড়া ব্রিজ)
কলকাতা ডে ট্যুর শুরু করো কলকাতার সবচেয়ে আইকনিক দৃশ্য দিয়ে — হাওড়া ব্রিজ। ভোরের আলোয় হুগলি নদীর উপর এই ক্যান্টিলিভার ব্রিজের ছবি তোলার জন্য এটাই সেরা সময়। গ্রীষ্মে ভোরবেলা নদীর ওপর থেকে একটা হালকা ঠান্ডা বাতাস আসে যা সত্যিই মনোরম।
কী করবে:
- ব্রিজের উপর হেঁটে যাও এবং ফটোগ্রাফি করো
- নিচে ঘাটে গিয়ে নদীর ধারে কিছুক্ষণ দাঁড়াও
- ফুলের বাজার (মল্লিকঘাট ফুলবাজার) দেখো — এশিয়ার অন্যতম বড় ফুলের বাজার এটি, ভোর থেকেই জমজমাট
কীভাবে যাবে: হাওড়া স্টেশন থেকে হেঁটে ৫ মিনিট। কলকাতার যেকোনো প্রান্ত থেকে মেট্রো বা ট্রেনে হাওড়া আসো।
সময় লাগবে: ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা
আরও পড়ুন – এই গরমে কলকাতার সেরা শরবতের দোকান (ডাব, কেসর, হার্বাল)
সকাল ৮টা — জলখাবার: আসল কলকাতার স্বাদ
রাস্তার খাবারে সকালটা শুরু করো
কলকাতার সকালের খাবার মানেই একটা আলাদা জগৎ। হাওড়া ব্রিজের কাছেই বা মেট্রোয় করে উত্তর কলকাতায় এলে পাবে:
- লুচি-তরকারি — পুরনো দিল্লি রোডের যেকোনো হোটেলে
- কচুরি-আলুর দম — উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সকালের খাবার
- চা — কলকাতার রাস্তার চা বিশ্বের সেরা, সন্দেহ নেই!
সেরা জায়গা: শ্যামবাজারের কাছে বা বাগবাজার অঞ্চলে পুরনো ধাঁচের মিষ্টির দোকানে সকালের জলখাবার করো। খরচ পড়বে মাত্র ₹৫০–₹৮০।
গরমের টিপ: সকালের খাবারের পরে একটা ডাবের জল খেয়ে নাও — ₹৪০–₹৫০ এ পাওয়া যায় এবং গ্রীষ্মে এটা তোমার সেরা বন্ধু।
সকাল ৯টা — ইতিহাসের সাথে মুখোমুখি: ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল
দ্বিতীয় গন্তব্য: ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল
কলকাতার ট্র্যাভেল গাইডে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল না থাকলে সেটা অসম্পূর্ণ। এই সাদা মার্বেলের অপূর্ব স্থাপত্য দেখলে যে কারো মুখ হাঁ হয়ে যাবে। সকাল ৯টায় যখন খোলে, তখনই ঢুকে পড়ো — এই সময়টা তুলনামূলক ভিড় কম থাকে এবং গরমও কম।
কী কী দেখবে:
- বাইরের বাগান ও ভাস্কর্য
- ভেতরের মিউজিয়াম — কলকাতার ইতিহাস, চিত্রকলা ও দুর্লভ সংগ্রহ
- রানি ভিক্টোরিয়ার মূর্তি ও সংগ্রহশালা
প্রবেশমূল্য:
- ভারতীয়: ₹৩০
- ছাত্রছাত্রী (ID কার্ড সহ): ₹১৫
সময় লাগবে: ১ থেকে দেড় ঘণ্টা
কীভাবে যাবে: মেট্রোতে ময়দান স্টেশন বা রবীন্দ্র সদন স্টেশন থেকে হেঁটে ১০–১৫ মিনিট।
ফটোগ্রাফি টিপ: সকালের আলোয় ভিক্টোরিয়ার সামনের দিকটা ছবির জন্য পারফেক্ট। রিফ্লেকটিং পুলের পাশে দাঁড়িয়ে একটা ছবি তুলতে ভুলো না!
সকাল ১০:৩০টা — ময়দান ও সেন্ট পল’স ক্যাথেড্রাল

তৃতীয় গন্তব্য: ময়দান ও আশেপাশের এলাকা
ভিক্টোরিয়া থেকে বেরিয়ে ময়দানের বিশাল সবুজ মাঠে একটু হাঁটো। এশিয়ার অন্যতম বড় শহরাঞ্চলীয় পার্ক এটি। এখান থেকেই কাছে:
- সেন্ট পল’স ক্যাথেড্রাল — গথিক স্থাপত্যের এই চার্চটি ১৮৪৭ সালে নির্মিত। ভেতরে ঢুকলে গরমের মাঝেও একটা শীতল প্রশান্তি পাওয়া যায়।
- ময়দান কামান — ঐতিহাসিক কামানগুলো দেখে নাও।
- রেসকোর্স — দূর থেকে দেখা যায়।
সময় লাগবে: ৪৫ মিনিট
দুপুর ১২টা — তাপ থেকে রক্ষা: AC জায়গায় লাঞ্চ
দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম
গ্রীষ্মে কলকাতায় দুপুর ১২টা থেকে ৩টা — এই সময়টা রাস্তায় থাকা উচিত নয়। তাই এই ফাঁকে একটা ভালো রেস্তোরাঁয় লাঞ্চ সেরে নাও এবং বিশ্রাম নাও।
কী খাবে — কলকাতার বিখ্যাত খাবার:
বাজেট অপশন (₹১০০–₹১৫০):
- পার্ক স্ট্রিটের আশেপাশের ছোট রেস্তোরাঁয় মাছের কালিয়া দিয়ে ভাত
- চাইনিজ কোয়ার্টারে (তিরেটি বাজার) চাইনিজ খাবার
মিড-রেঞ্জ (₹২৫০–৪০০):
- Oh! Calcutta বা Bhojohori Manna — অথেনটিক বাঙালি খাবারের জন্য সেরা
- Peter Cat — কলকাতার লিজেন্ডারি রেস্তোরাঁ, চেলো কাবাব বিখ্যাত
গরমে সেরা পানীয়:
- আমের শরবত / আমপোড়ার শরবত
- লেবু-লবণ-চিনির শরবত
- ডাবের জল
গরম টিপ: লাঞ্চের পরে কাছের কোনো মল বা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ক্যাফেতে ঘণ্টাখানেক বিশ্রাম নাও। Forum Mall বা South City Mall কাছেই আছে।
বিকেল ৩টা — কলকাতার আত্মা: পার্ক স্ট্রিট ও মার্কেট

চতুর্থ গন্তব্য: পার্ক স্ট্রিট
বিকেল ৩টার পর রোদের তীব্রতা কমতে শুরু করে। এই সময়ে যাও পার্ক স্ট্রিটে। এটাকে কলকাতার “দিল” বলা যায়।
পার্ক স্ট্রিটে কী করবে:
- রাস্তায় হেঁটে কফি হাউসের ঐতিহাসিক পরিবেশ উপভোগ করো
- ইন্ডিয়ান কফি হাউস — বাম রাজনীতি, কবিতা আর বুদ্ধিজীবীদের আড্ডার এই ঐতিহাসিক জায়গায় একটা কফি খাও, খরচ মাত্র ₹৩০–৪০
- বইয়ের দোকান ঘুরে দেখো
- ছোট ছোট গ্যালারি ও আর্ট স্পেস
কেনাকাটার জন্য: নিউ মার্কেটে যাও। কলকাতার সবচেয়ে পুরনো ও বিখ্যাত বাজার এটি। এখানে পাওয়া যায়:
- হস্তশিল্প ও স্যুভেনির
- কলকাতার বিখ্যাত রসগোল্লা ও মিষ্টি (অবশ্যই কিনবে!)
- সস্তায় পোশাক, জুতো
সময় লাগবে: ১.৫ থেকে ২ ঘণ্টা
বিকেল ৫টা — উত্তর কলকাতার গলিতে হারিয়ে যাও
পঞ্চম গন্তব্য: কুমোরটুলি ও শোভাবাজার রাজবাড়ি
বিকেলের ঠান্ডা হাওয়ায় চলো উত্তর কলকাতার পুরনো গলিতে। এখানে কলকাতার আসল রূপ পাবে।
কুমোরটুলি:
এখানে মাটির মূর্তি তৈরির কারিগরদের কাজ দেখতে পাবে। পুজোর মৌসুমে না হলেও সারাবছরই এখানে কিছু না কিছু তৈরি হয়। ফটোগ্রাফারদের জন্য এটা স্বর্গ।
শোভাবাজার রাজবাড়ি:
বাংলার নবাবি আমলের স্থাপত্যের অপূর্ব নিদর্শন। ঐতিহাসিক এই রাজবাড়িতে একবার ঢুঁ মারো।
পারসি চার্চ ও জৈন মন্দির:
উত্তর কলকাতার অলিগলিতে অনেক ঐতিহাসিক উপাসনালয় আছে — প্রতিটি একটা আলাদা গল্প বলে।
কীভাবে যাবে: মেট্রোতে শ্যামবাজার স্টেশন বা গিরিশ পার্ক স্টেশন।
সময় লাগবে: ১.৫ ঘণ্টা
সন্ধ্যা ৬:৩০টা — প্রিন্সেপ ঘাটে সূর্যাস্ত

ষষ্ঠ গন্তব্য: প্রিন্সেপ ঘাট
দিনের সবচেয়ে রোমান্টিক মুহূর্ত — প্রিন্সেপ ঘাটে সূর্যাস্ত। গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় হুগলি নদীর উপরে সূর্য ডুবতে দেখার অভিজ্ঞতা অতুলনীয়।
প্রিন্সেপ ঘাটে কী করবে:
- নদীর ধারে বসে সূর্যাস্ত উপভোগ করো
- নৌকায় চড়ে হুগলিতে ছোট্ট রাইড করো (₹৫০–₹১০০)
- ঘাটের কাছে বসে ঝালমুড়ি বা কাঁচা আম-লবণ-মশলা খাও
- ফেরিতে করে হাওড়া পর্যন্ত একটা রাইড নাও — অন্যরকম অভিজ্ঞতা
কীভাবে যাবে: মেট্রোতে রবীন্দ্র সদন বা ময়দান স্টেশন থেকে অটো বা ক্যাব।
ফটোগ্রাফি টিপ: সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে গোল্ডেন আওয়ারে তোলা ছবি তোমার ইনস্টাগ্রামে ধামাকা ফেলবে।
আরও পড়ুন – কলকাতা থেকে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের সেরা গাইড
রাত ৮টা — রাতের কলকাতায় ডিনার ও সমাপ্তি
সপ্তম গন্তব্য: রাতের খাবার ও ফেরার পথ
দিনটা শেষ করো কলকাতার সেরা রাতের খাবার দিয়ে।
রাতের খাবারের বিকল্প:
রোল — কলকাতার গর্ব:
কলকাতার রোল মানেই একটা আলাদা জগৎ। এটা না খেলে কলকাতা সফর অসম্পূর্ণ।
- Kusum Rolls (পার্ক স্ট্রিট) — বিখ্যাত এগ রোল ও চিকেন রোল
- Hot Kati Rolls — সমান জনপ্রিয়
দাম: ₹৮০–₹১৫০
মিষ্টি — কলকাতার আত্মা:
রাতের খাবারের পরে অবশ্যই:
- রসগোল্লা — K.C. Das বা Balaram Mullick থেকে
- মিষ্টি দই — একটু মিষ্টি মুখ করে রাত শেষ করো
স্ট্রিট ফুড:
- কলকাতার ফুচকা (পানিপুরি) — তেঁতুল জলে ডোবানো — অনন্য স্বাদ
- ঘুগনি
- জিলিপি
কলকাতা ডে ট্যুরের সম্পূর্ণ ইটিনারেরি এক নজরে
| সময় | গন্তব্য | আনুমানিক খরচ |
|---|---|---|
| ৭:০০ AM | হাওড়া ব্রিজ + মল্লিকঘাট ফুলবাজার | বিনামূল্যে |
| ৮:০০ AM | জলখাবার (লুচি-তরকারি বা কচুরি) | ₹৫০–৮০ |
| ৯:০০ AM | ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল | ₹৩০ |
| ১০:৩০ AM | ময়দান + সেন্ট পল’স ক্যাথেড্রাল | বিনামূল্যে |
| ১২:০০ PM | লাঞ্চ + AC-তে বিশ্রাম | ₹১৫০–৩০০ |
| ৩:০০ PM | পার্ক স্ট্রিট + নিউ মার্কেট | ₹৫০–২০০ |
| ৫:০০ PM | কুমোরটুলি + উত্তর কলকাতা | বিনামূল্যে |
| ৬:৩০ PM | প্রিন্সেপ ঘাট সূর্যাস্ত | ₹৫০–১০০ |
| ৮:০০ PM | রাতের খাবার (রোল + মিষ্টি) | ₹১৫০–২৫০ |
মোট আনুমানিক খরচ (পরিবহন সহ): ₹৬৫০–₹১,১০০
কলকাতায় যাতায়াত — স্মার্ট ট্রাভেলারের গাইড
কলকাতা মেট্রো
কলকাতার মেট্রো ভারতের প্রথম মেট্রো রেল এবং এটি ব্যবহার করা সবচেয়ে সহজ ও সস্তা।
- মিনিমাম ভাড়া: ₹৫
- স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করলে ছাড় পাওয়া যায়
- গ্রীষ্মে AC মেট্রো একটা বড় স্বস্তি!
অ্যাপ-ক্যাব
Ola ও Uber কলকাতায় সহজেই পাওয়া যায়। রাতে বা দুপুরে ভ্রমণের জন্য আদর্শ।
ট্রাম
কলকাতার ঐতিহাসিক ট্রাম এখনো চলে। একবার চেপে দেখো — এটা একটা অনন্য অভিজ্ঞতা। তবে গরমে তেমন আরামদায়ক নয়।
হলুদ ট্যাক্সি
কলকাতার আইকনিক হলুদ অ্যাম্বাসেডর ট্যাক্সি — একবার চাপলে কলকাতার আসল গন্ধ পাবে।
আরও পড়ুন – কলকাতার সেরা 10 টি চাটের দোকান
গ্রীষ্মে কলকাতা ভ্রমণ — কী কী সঙ্গে নেবে
তোমার ব্যাগে অবশ্যই রাখো:
- সানস্ক্রিন (SPF 50+)
- সানগ্লাস
- হালকা ছাতা বা টুপি
- জলের বোতল (১.৫ লিটার অন্তত)
- ORS বা ইলেক্ট্রোলাইট পাউডার — ডিহাইড্রেশন এড়াতে
- পাওয়ার ব্যাংক — ফোন চার্জের জন্য
- হালকা সুতির পোশাক
- ছোট ফার্স্ট-এইড কিট
- ক্যাশ — অনেক জায়গায় UPI নেই
কলকাতার অবশ্যই মিস করবে না যা
লুকানো রত্ন — অফ দ্য বিটেন পাথ
তুমি যদি ভিড়ের বাইরে গিয়ে কিছু দেখতে চাও, তাহলে এগুলো দেখো:
বাগান বাড়ি:
উত্তর কলকাতার পুরনো জমিদার বাড়ির কিছু অংশ এখনও দেখা যায়।
পটুয়াটোলা:
কলকাতার পটচিত্র শিল্পীদের পাড়া। পটচিত্র কিনতে বা শিল্পীদের কাজ দেখতে যাও।
কলেজ স্ট্রিট:
বইপ্রেমীদের স্বর্গ। কলকাতার কফি হাউস এখানেই। পুরনো বই, দুর্লভ সংগ্রহ — সব পাবে।
চাইনিজ কলোনি (টিরেটি বাজার):
সত্যিকারের চাইনিজ খাবার খেতে চাইলে এখানে এসো। কলকাতার চাইনিজ সম্প্রদায়ের এই পাড়া একটা অনন্য অভিজ্ঞতা।
ইনস্টাগ্রামযোগ্য স্পট — কলকাতার সেরা ফটো লোকেশন
তরুণ ভ্রমণকারীদের জন্য কলকাতার সেরা ফটো স্পট:
১. হাওড়া ব্রিজ — ভোরের আলো বা রাতের আলোকসজ্জায়
২. ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের রিফ্লেকটিং পুল — সকালের নরম আলোয়
৩. কুমোরটুলির গলি — মাটির মূর্তির সাথে
৪. প্রিন্সেপ ঘাট — সূর্যাস্তের সময়
৫. কলেজ স্ট্রিটের পুরনো বইয়ের দোকান — বোহেমিয়ান ভাইব
৬. ট্রামের ভেতরে — ভিনটেজ ফিল
৭. পুরনো ঔপনিবেশিক বাড়ির সামনে — উত্তর কলকাতার গলিতে
কলকাতা ট্রাভেল টিপস — যা তোমাকে লোকাল মনে করাবে
- “দাদা” বলে ডাকো — পুরুষদের “দাদা” আর মহিলাদের “দিদি” — এই সম্বোধনে কলকাতার মানুষ মিষ্টি হয়ে যায়।
- বাংলায় দুটো বাক্য শিখে নাও: “কোথায় যাব?” (Kothay jabo?) আর “কত টাকা?” (Koto taka?) — এটুকুতেই কাজ হবে।
- গুগল ম্যাপ ব্যবহার করো — কলকাতার গলি বড়ই জটিল।
- অটো শেয়ার করা যায় — অনেক রুটে শেয়ার অটো খুব সস্তা।
- জল কিনে খাও — রাস্তার শরবত পেট সইতে নাও পারে।
- দরদাম করো — নিউ মার্কেটে বা ফুটপাথের দোকানে দরদাম করা অলিখিত নিয়ম।
একদিনে কলকাতা দেখা — একটা শহর নয়, একটা অনুভূতি
কলকাতাকে একদিনে সম্পূর্ণ জানা সম্ভব নয়। কিন্তু কলকাতা গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ গাইড অনুসরন করে এই একটা দিনে তুমি যা অনুভব করবে — সেই রাস্তার ঝালমুড়ির তীক্ষ্ণ স্বাদ, হুগলির সন্ধ্যার রূপালি আলো, কফি হাউসের গায়ে গায়ে বসার আড্ডার পরিবেশ, কুমোরটুলির মাটির মূর্তির গন্ধ — এগুলো তোমার স্মৃতিতে বহুদিন থেকে যাবে।
কলকাতা শুধু একটা শহর নয়, এটা একটা অনুভূতি। গ্রীষ্মের তীব্র গরমেও এই শহর তার অতিথিকে আলিঙ্গন করে, খাওয়ায়, ইতিহাস শোনায় আর মনে এক অনন্য ছাপ রেখে যায়।
তাই আর দেরি না করে বেরিয়ে পড়ো। তোমার একদিনে কলকাতা দেখা মনে দাগ কাটবে।
বন্ধুদের সাথে শেয়ার করো এই গাইড এবং কমেন্টে জানাও তোমার কলকাতা অভিজ্ঞতার গল্প!

প্রতীক দত্তগুপ্ত, থাকেন কলকাতায়, কাজ বাদে বেড়ানোই যার প্রথম ভালবাসা। এই কয়েক বছর হল বেড়ানোর সাথে কলমও ধরেছেন । তিনি শুধুমাত্র যে জায়গাগুলি পরিদর্শন করেছেন সেগুলি সম্পর্কেই ব্লগ করেন না, তবে তিনি তার অনুগামীদের জন্য টিপস, কৌশল এবং নির্দেশিকাগুলি সম্পর্কেও পোস্ট করেন৷