পুজোর ছুটিতে ভ্রমণ করুন অন্ধ্রপ্রদেশের ৫টি অফবিট গন্তব্যে, ভিড় এড়িয়ে — কলকাতা থেকে যাওয়ার উপায়, থাকার জায়গা ও খরচের সম্পূর্ণ গাইড।
প্রতি বছর পুজো এলেই বাঙালির মনে একটাই প্রশ্ন — পুজোর ছুটিতে কোথায় ঘুরতে যাওয়া যায় কম ভিড়ে? দার্জিলিং, পুরী বা কেরালার ভিড়ে হাঁসফাঁস করতে করতে ছুটি কাটানোর বদলে যদি এমন একটা জায়গার খোঁজ পান, যেখানে কুয়াশা ঢাকা পাহাড়, কফি বাগান, নদীর বুকে দ্বীপ আর নিস্তব্ধ গ্রাম আপনার জন্য অপেক্ষা করছে — তাহলে কেমন হয়? অন্ধ্রপ্রদেশ ঠিক এই অভিজ্ঞতাই দেয়, আর সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হলো, এখানে এখনও বাঙালি পর্যটকের ঢল নামেনি। এই লেখায় আমি হাতে ধরে দেখাব, কলকাতা থেকে কীভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন এবং খরচ কেমন পড়বে — যাতে আপনার পুজোর পরিকল্পনা একদম ঝরঝরে হয়ে যায়।
পুজোর ছুটিতে ভ্রমণ করতে কেন অফবিট অন্ধ্রপ্রদেশ?
অক্টোবর মাসে অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্বঘাট পর্বতমালায় (Eastern Ghats) বর্ষার রেশ সবে কাটতে শুরু করে। পাহাড় তখন সবুজে ভরা, ঝর্না ভর্তি জলে গমগম করছে, আর আকাশ মেঘলা-নীলের খেলায় মত্ত। এই সময়টা তাই ট্রেকিং, ফটোগ্রাফি আর প্রকৃতির কোলে হারিয়ে যাওয়ার জন্য একদম আদর্শ। তার ওপর দুর্গাপুজোর সময় গোদাবরী তীরের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় উৎসবও চলে, যা ভ্রমণে যোগ করে অন্য মাত্রা। সবচেয়ে বড় কথা, কলকাতা থেকে পূর্ব উপকূল ধরে সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ থাকায় গোটা যাত্রাটাই সহজ ও তুলনামূলক সস্তা।
১. লাম্বাসিঙ্গি — দক্ষিণ ভারতের “কাশ্মীর”
কী বিশেষত্ব: বিশাখাপত্তনম জেলার প্রায় ১০২৫ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই ছোট্ট গ্রামটি দক্ষিণ ভারতের একমাত্র জায়গা, যেখানে শীতকালে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি নেমে যায় আর মাঝেমধ্যে হালকা তুষারকণাও দেখা যায়। পুজোর সময় অতটা ঠান্ডা না পড়লেও ভোরের কুয়াশা, চা-বাগানের মতো ছড়িয়ে থাকা সবুজ উপত্যকা আর নিস্তব্ধতা মন জুড়িয়ে দেবে। স্থানীয়রা একে “অন্ধ্রের কাশ্মীর” নামেই ডাকে।
কলকাতা থেকে লাম্বাসিঙ্গি কীভাবে যাবেন: প্রথমে হাওড়া থেকে বিশাখাপত্তনম (ভাইজ্যাগ) পর্যন্ত ট্রেনে যেতে হবে। করমণ্ডল এক্সপ্রেস বা ইস্ট কোস্ট এক্সপ্রেসের মতো ট্রেনে সময় লাগে প্রায় ১৪-১৬ ঘণ্টা। বিশাখাপত্তনম থেকে লাম্বাসিঙ্গি প্রায় ১১০-১১৫ কিমি, গাড়িতে ৩-৪ ঘণ্টা লাগে। চাইলে বিমানেও কলকাতা থেকে বিশাখাপত্তনম যাওয়া যায়, সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো।
কোথায় থাকবেন লাম্বাসিঙ্গি: এখানে বড় হোটেলের বদলে ছোট হোমস্টে আর কটেজই বেশি জনপ্রিয়, যা এই জায়গার সৌন্দর্যের সঙ্গে বেশি মানানসই। আরাকু ভ্যালি বা বিশাখাপত্তনম থেকে ডে-ট্রিপ করেও লাম্বাসিঙ্গি ঘুরে আসা যায়, যদি স্থানীয় থাকার সুবিধা পছন্দ না হয়।
আনুমানিক খরচ: স্লিপার ক্লাসে ট্রেনভাড়া মাথাপিছু প্রায় ৬০০-৯০০ টাকা, এসি থ্রি-টায়ারে ১৮০০-২২০০ টাকা। হোমস্টে/কটেজে রাতপ্রতি ১৫০০-৩০০০ টাকা। স্থানীয় গাড়ি ভাড়া দিনপ্রতি ২৫০০-৩৫০০ টাকা।
২. মারেদুমিল্লি — নির্জনতা যাঁরা খোঁজেন তাঁদের জন্য

কী বিশেষত্ব: পূর্ব গোদাবরী জেলার ঘন শাল ও সেগুন বনে ঘেরা মারেদুমিল্লি এখনও অনেকটাই অচেনা থেকে গেছে। এখানে আছে বাঁশের সেতু, ছোট ছোট জলপ্রপাত, রাবার বাগান আর ট্রাইবাল মিউজিয়াম। যাঁরা লাম্বাসিঙ্গি বা আরাকুর ভিড়ও এড়াতে চান, তাঁদের জন্য এই জায়গা একদম মনের মতো — সারাদিন হাঁটাচলা করেও কারও সঙ্গে দেখা না হওয়ার সম্ভাবনা এখানে বেশি।
কিভাবে কলকাতা থেকে মারেদুমিল্লি যাবেন: হাওড়া থেকে রাজামুন্দ্রি (Rajahmundry) পর্যন্ত ট্রেন ধরুন, সময় লাগে প্রায় ১৮-২০ ঘণ্টা। রাজামুন্দ্রি থেকে মারেদুমিল্লি প্রায় ৯০ কিমি, গাড়িতে আড়াই-তিন ঘণ্টা। বিকল্প হিসেবে বিশাখাপত্তনম হয়েও আসা যায়, তবে রাজামুন্দ্রি রুটটাই কাছের।
মারেদুমিল্লি গিয়ে কোথায় থাকবেন: অন্ধ্রপ্রদেশ ট্যুরিজমের হরিতা রিসর্ট এখানে অন্যতম ভালো ও নিরাপদ বিকল্প, যেখানে জঙ্গলের মধ্যে কটেজ-স্টাইলে থাকার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া কিছু বেসরকারি ইকো-রিসর্টও গড়ে উঠেছে।
আনুমানিক খরচ: ট্রেনভাড়া (স্লিপার) ৭০০-১০০০ টাকা, এসি থ্রি-টায়ার ২২০০-২৬০০ টাকা। হরিতা রিসর্টে রাতপ্রতি ২৫০০-৪০০০ টাকা। গাড়ি ভাড়া দিনপ্রতি ৩০০০-৩৫০০ টাকা।
আরও পড়ুন :- আরাকু ভ্যালি দর্শনীয় স্থান ও ভ্রমণ গাইড, যাওয়া, থাকা ও দেখা সহ
৩. পাপিকোন্ডালু — গোদাবরীর বুকে “অন্ধ্রের আমাজন”
কী বিশেষত্ব: গোদাবরী নদীর দুই পাশে সবুজ পাহাড় আর ঘন জঙ্গলের মাঝ দিয়ে বোটে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পাপিকোন্ডালুকে করে তুলেছে একেবারে অন্যরকম। অনেকে একে “অন্ধ্রের আমাজন” বলেন। রাজামুন্দ্রি থেকে সারাদিনের বোট ক্রুজ করে পাপি হিলস, পট্টিসীমা মন্দির আর বাঁশের কুঁড়েঘরে ঘেরা গ্রাম দেখা যায় — এই অভিজ্ঞতা কেরালার আলেপ্পির থেকে কোনও অংশে কম নয়, অথচ এখানে পর্যটকের ভিড় অনেক কম।
কলকাতা থেকে কিভাবে পাপিকোন্ডালু যাবেন: রাজামুন্দ্রি এখানকার প্রবেশদ্বার। হাওড়া থেকে সরাসরি ট্রেন আছে, সময় লাগে ১৮-২০ ঘণ্টা। রাজামুন্দ্রি থেকে বোট ছাড়ে সাধারণত সকালে, ফিরতে সন্ধে হয়ে যায়। চাইলে কলকাতা থেকে বিমানে বিশাখাপত্তনম বা বিজয়ওয়াড়া হয়ে সড়কপথেও রাজামুন্দ্রি পৌঁছানো যায়।
পাপিকোন্ডালু ঘুরতে কোথায় থাকবেন: রাজামুন্দ্রি শহরে মাঝারি বাজেটের হোটেল প্রচুর আছে। বোট ট্রিপ সাধারণত ডে-এক্সকারশন হিসেবেই হয়, তাই রাজামুন্দ্রিতেই থাকা সুবিধাজনক। যাঁরা আরেকটু গভীরে যেতে চান, তাঁরা পার্শ্ববর্তী কুনাভরম বা পেরান্তলাপল্লি গ্রামে হোমস্টে খুঁজে নিতে পারেন।
আনুমানিক খরচ: ট্রেনভাড়া আগের মতোই (৭০০-২৬০০ টাকা ক্লাস অনুযায়ী)। রাজামুন্দ্রিতে হোটেল রাতপ্রতি ১৫০০-২৫০০ টাকা। বোট ক্রুজের টিকিট মাথাপিছু প্রায় ৬০০-১২০০ টাকা (ক্লাস ও ভ্রমণের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী)।
৪. কোনাসীমা — গোদাবরীর “কেরালা”
কী বিশেষত্ব: গোদাবরী নদী যেখানে সমুদ্রে মিশছে, তার ঠিক আগে তৈরি হওয়া এই ব-দ্বীপ অঞ্চল নারকেল বাগান, খাল আর শান্ত ব্যাকওয়াটারে ভরা। অনেকে একে “আন্ধ্রার আলেপ্পি” বলেই ডাকেন। এখানে নৌকাবিহার, গ্রামীণ জীবনযাত্রা দেখা আর স্থানীয় নদীর মাছের রান্না চেখে দেখাটাই মূল আকর্ষণ। ভিড়ভাট্টাহীন, শান্ত একটা ছুটি চাইলে কোনাসীমা একদম উপযুক্ত।
কলকাতা থেকে কিভাবে কোনাসীমা যাবেন: রাজামুন্দ্রি বা কাকিনাড়া পর্যন্ত ট্রেনে গিয়ে সেখান থেকে সড়কপথে কোনাসীমার আমালাপুরম বা মুম্মিদিভরম পৌঁছানো যায় (৪৫-৬০ কিমি, দেড়-দুই ঘণ্টা)।
কোথায় থাকবেন কোনাসীমা গিয়ে: এখানে বড় চেইন হোটেল কম, বদলে নদীর ধারের ছোট রিসর্ট আর হোমস্টেই বেশি ভালো অভিজ্ঞতা দেয়।
আনুমানিক খরচ: ট্রেনভাড়া রাজামুন্দ্রির মতোই। রিসর্ট/হোমস্টেতে রাতপ্রতি ২০০০-৩৫০০ টাকা। স্থানীয় নৌকাবিহার মাথাপিছু ৩০০-৭০০ টাকা।
আরও পড়ুন :- অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানার সেরা দর্শনীয় স্থানগুলির ভ্রমণ গাইড
৫. গান্ডিকোটা — ভারতের “গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন”

কী বিশেষত্ব: কাডাপা জেলার এই জায়গা পেন্নার নদীর গভীর গিরিখাত আর পুরনো দুর্গের জন্য বিখ্যাত। লাল-বাদামি পাথরের খাড়া দেওয়াল আর নিচ দিয়ে বয়ে চলা নদী দেখে অনেকেই একে “ভারতের গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন” আখ্যা দেন। সূর্যাস্তের সময় এখানকার দৃশ্য সত্যিই ক্যামেরাবন্দি করার মতো। এটি বাকি চারটি জায়গার তুলনায় কিছুটা দূরে এবং শুকনো আবহাওয়ার এলাকা, তাই যাঁদের হাতে সময় বেশি এবং যাঁরা পাহাড়-জঙ্গলের বদলে পাথুরে ল্যান্ডস্কেপ দেখতে চান, তাঁদের জন্য এটি আদর্শ।
কলকাতা থেকে গান্ডিকোটা যাওয়ার উপায়: এখানে যাওয়া তুলনামূলক ঝক্কির। হাওড়া থেকে ট্রেনে কাডাপা বা তাদিপত্রি স্টেশন পর্যন্ত যেতে সময় লাগে প্রায় ২৪-২৬ ঘণ্টা। এরপর সড়কপথে গান্ডিকোটা প্রায় ৩০-৪০ কিমি। সময় বাঁচাতে চাইলে কলকাতা থেকে বিমানে হায়দরাবাদ বা বেঙ্গালুরু হয়ে সেখান থেকে সড়কপথে যাওয়াই বেশি বাস্তবসম্মত।
কোথায় থাকবেন গান্ডিকোটা গিয়ে: অন্ধ্রপ্রদেশ ট্যুরিজমের হরিতা রিসর্ট এখানেও ভরসাযোগ্য বিকল্প, গিরিখাতের কাছেই অবস্থিত।
আনুমানিক খরচ: ট্রেনভাড়া (স্লিপার) ৯০০-১২০০ টাকা, এসি থ্রি-টায়ার ২৮০০-৩২০০ টাকা। বিমানে গেলে মাথাপিছু ৫০০০-৮০০০ টাকা (আগে থেকে বুক করলে)। হরিতা রিসর্টে রাতপ্রতি ২৫০০-৩৫০০ টাকা।
একনজরে খরচের হিসাব (৫ রাত ৬ দিনের ট্রিপ, মাথাপিছু)
| খাত | আনুমানিক খরচ |
|---|---|
| ট্রেন যাতায়াত (স্লিপার/এসি৩) | ১,৪০০ – ৪,৫০০ টাকা |
| থাকা (রাতপ্রতি গড়ে) | ২,০০০ – ৩,৫০০ টাকা |
| স্থানীয় গাড়ি/ট্যাক্সি (দিনপ্রতি) | ২,৫০০ – ৩,৫০০ টাকা (ভাগাভাগি করলে খরচ কমে) |
| খাওয়াদাওয়া (দিনপ্রতি) | ৫০০ – ৮০০ টাকা |
| মোট আনুমানিক (৪ জনের দলে ভাগাভাগি করলে) | ১২,০০০ – ১৮,০০০ টাকা মাথাপিছু |
বিমানে গেলে খরচ বাড়বে, তবে সময় বাঁচবে অনেকটাই — বিশেষত যাঁদের হাতে ৪-৫ দিনের বেশি ছুটি নেই।
কীভাবে সাজাবেন আপনার রুট
যাঁদের হাতে ৫-৬ দিন আছে, তাঁরা বিশাখাপত্তনম দিয়ে ঢুকে লাম্বাসিঙ্গি ও আরাকু ভ্যালি ঘুরে রাজামুন্দ্রি দিয়ে পাপিকোন্ডালু ও কোনাসীমা দেখে ফিরতে পারেন — এতে একটানা যাতায়াতও কম হবে, আবার পাহাড় ও নদী দুটো অভিজ্ঞতাই এক ট্রিপে পাওয়া যাবে। গান্ডিকোটা যেহেতু বেশ দূরে, তাই সেটা আলাদা ট্রিপ হিসেবে পরিকল্পনা করাই ভালো।
পুজোর সময় যাওয়ার আগে যা মাথায় রাখবেন
- পুজোর ছুটিতে ট্রেনের টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে থাকে, তাই অন্তত ২-৩ মাস আগে থেকে বুকিং সেরে ফেলুন।
- অক্টোবরে এই অঞ্চলে মাঝেমধ্যে হালকা বৃষ্টি হতে পারে, তাই ছাতা বা রেনকোট সঙ্গে রাখুন।
- পাহাড়ি ও জঙ্গল এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল, তাই আগে থেকে থাকার জায়গার বুকিং নিশ্চিত করে নেওয়াই ভালো।
- অন্ধ্রপ্রদেশ ট্যুরিজমের হরিতা রিসর্টগুলি অনলাইনে সরাসরি বুক করা যায়, এবং এগুলো তুলনামূলক নিরাপদ ও পরিষ্কার।
- স্থানীয় খাবারে ঝাল বেশি থাকে, তাই প্রথমবার চেখে দেখার সময় সাবধানে অর্ডার করুন।
সংক্ষেপে
| গন্তব্য | মূল আকর্ষণ | নিকটতম স্টেশন | ২ রাতের আনুমানিক খরচ (মাথাপিছু) |
|---|---|---|---|
| লাম্বাসিঙ্গি | কুয়াশা ঢাকা পাহাড়, ঠান্ডা আবহাওয়া | বিশাখাপত্তনম | ৪,০০০ – ৬,০০০ টাকা |
| মারেদুমিল্লি | ঘন জঙ্গল, নির্জনতা | রাজামুন্দ্রি | ৪,৫০০ – ৭,০০০ টাকা |
| পাপিকোন্ডালু | গোদাবরী বোট ক্রুজ | রাজামুন্দ্রি | ৩,৫০০ – ৫,৫০০ টাকা |
| কোনাসীমা | ব্যাকওয়াটার, নারকেল বাগান | রাজামুন্দ্রি/কাকিনাড়া | ৪,০০০ – ৬,০০০ টাকা |
| গান্ডিকোটা | গিরিখাত, দুর্গ | কাডাপা | ৫,৫০০ – ৭,৫০০ টাকা |
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
পুজোর ছুটিতে অন্ধ্রপ্রদেশ যাওয়ার সেরা সময় কোনটা?
অক্টোবর মাস, যখন বর্ষার সবুজ থাকে কিন্তু বৃষ্টির দাপট কমে আসে। আবহাওয়া থাকে মনোরম, দিনে হালকা গরম আর রাতে আরামদায়ক ঠান্ডা।
কলকাতা থেকে অন্ধ্রপ্রদেশের অফবিট জায়গায় যেতে কত সময় লাগে?
বিশাখাপত্তনম বা রাজামুন্দ্রি পর্যন্ত ট্রেনে ১৪-২০ ঘণ্টা, বিমানে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা।
এই জায়গাগুলো কি পরিবার নিয়ে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত?
হ্যাঁ, বিশেষত লাম্বাসিঙ্গি, মারেদুমিল্লি ও পাপিকোন্ডালু পরিবার নিয়ে যাওয়ার জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক। গান্ডিকোটায় গিরিখাতের ধারে হাঁটার সময় ছোট শিশুদের ব্যাপারে একটু সতর্ক থাকা ভালো।
একসঙ্গে কয়টা জায়গা কভার করা সম্ভব?
৫-৬ দিনের ছুটিতে লাম্বাসিঙ্গি, আরাকু, পাপিকোন্ডালু ও কোনাসীমা — এই চারটে জায়গা একটা রুটেই ঘুরে ফেলা যায়।
শেষ কথা বলি — পুজোর ভিড় থেকে একটু দূরে, যেখানে সকালের কুয়াশা আর নদীর কুলকুল শব্দই একমাত্র সঙ্গী, সেরকম একটা ছুটি আপনি খুঁজছেন? অন্ধ্রপ্রদেশের (offbeat Andhra Pradesh) এই পাঁচটি জায়গা আপনাকে হতাশ করবে না। শুধু মনে রাখবেন, অফবিট জায়গার সৌন্দর্য টিকিয়ে রাখতে হলে দায়িত্বশীল পর্যটনের পথেই হাঁটতে হবে — প্লাস্টিক এড়িয়ে চলুন, স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে সম্মানের সঙ্গে মিশুন, আর প্রকৃতিকে যেমন পেয়েছেন, তেমনই রেখে আসুন পরের ভ্রমণকারীর জন্য।

প্রতীক দত্তগুপ্ত, থাকেন কলকাতায়, কাজ বাদে বেড়ানোই যার প্রথম ভালবাসা। এই কয়েক বছর হল বেড়ানোর সাথে কলমও ধরেছেন । তিনি শুধুমাত্র যে জায়গাগুলি পরিদর্শন করেছেন সেগুলি সম্পর্কেই ব্লগ করেন না, তবে তিনি তার অনুগামীদের জন্য টিপস, কৌশল এবং নির্দেশিকাগুলি সম্পর্কেও পোস্ট করেন৷


