পরিবার-বান্ধব অ্যাডভেঞ্চার গন্তব্য হিসাবে এমন ৭টি জায়গার উল্লেখ করা হয়েছে যেগুলি সপরিবারে জল-ক্রীড়া, বরফে স্কি, গ্লাইডিং সব উপভোগ করাযায়।
ভারতে ভ্রমণের কথা ভাবলে প্রথমেই মাথায় আসে শান্ত পাহাড়, ঐতিহাসিক মন্দির কিংবা সমুদ্রত সৈকতের কথা। কিন্তু আধুনিক ভ্রমণপিপাসু পরিবারগুলো এখন শুধু অলস সময় কাটানো নয়, বরং জীবনের ঝুলি পূর্ণ করতে চায় রোমাঞ্চ বা অ্যাডভেঞ্চার দিয়ে। মা-বাবা এবং সন্তানদের একসাথে কোনো পাহাড়ি নদীতে রাফটিং করা কিংবা ঘন জঙ্গলে বাঘ খোঁজার যে রোমাঞ্চ, তা সাধারণ ট্যুরিস্ট স্পটে পাওয়া কঠিন।
অনেকের ধারণা অ্যাডভেঞ্চার মানেই খুব কঠিন কিছু, যা বাচ্চাদের নিয়ে সম্ভব নয়। কিন্তু ভারত এমন এক বৈচিত্র্যময় দেশ যেখানে প্রতিটি রোমাঞ্চকর অভিযানের একটি নিরাপদ এবং আনন্দদায়ক দিক রয়েছে।
পরিবার-বান্ধব অ্যাডভেঞ্চার গন্তব্য: সেরা ৭টি
আজকের এই ব্লগে আমরা আলোচনা করব ভারতের সেরা ৭টি পরিবার-বান্ধব অ্যাডভেঞ্চার গন্তব্য নিয়ে, যা আপনার পরবর্তী ছুটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
১. হৃষিকেশ, উত্তরাখণ্ড: গঙ্গার বুকে জল রোমাঞ্চ

হৃষিকেশকে ভারতের ‘অ্যাডভেঞ্চার ক্যাপিটাল’ বলা হয়। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এই পবিত্র শহরটি যেমন শান্তির জন্য পরিচিত, তেমনি এটি রোমাঞ্চপ্রিয়দের জন্য স্বর্গরাজ্য।
পরিবারের জন্য এখানে কী আছে?
- রিভার রাফটিং: পরিবারের ছোট সদস্য (১৪ বছরের বেশি) এবং বয়স্কদের জন্য এখানে গ্রেড-১ এবং গ্রেড-২ এর সহজ রাফটিং পথ রয়েছে। অভিজ্ঞ গাইডদের তত্ত্বাবধানে গঙ্গার ঢেউয়ের সাথে লড়াই করা এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
- ক্যাম্পিং: শিবপুরী বা ব্রহ্মপুরীর তাবুগুলোতে রাত কাটানো বাচ্চাদের জন্য দারুণ শিক্ষণীয় হতে পারে। ক্যাম্পফায়ারের পাশে বসে গল্প করা আর তারা ভরা আকাশ দেখার আনন্দই আলাদা।
- জিপলাইন: গঙ্গার এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে ক্যাবলের সাহায্যে উড়ে যাওয়া। এটি নিরাপদ এবং পরিবারের কিশোর সদস্যদের জন্য অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ।
ভ্রমণের সেরা সময়: মার্চ থেকে জুন এবং অক্টোবর থেকে নভেম্বর।
প্রো-টিপ: পরিবারের সাথে গেলে সবসময় ভালো মানের রিসোর্ট বা ক্যাম্প বুক করুন যেখানে সব ধরণের নিরাপত্তার ব্যবস্থা আছে।
কলকাতা থেকে পৌঁছানোর উপায়:
- বিমানে: কলকাতা থেকে সরাসরি দেরাদুন (Jolly Grant Airport) বিমানবন্দর। সেখান থেকে ট্যাক্সিতে হৃষিকেশ ১ ঘণ্টার পথ। অথবা দিল্লি হয়ে ফ্লাইটে আসতে পারেন।
- ট্রেনে: হাওড়া থেকে উপাসনা এক্সপ্রেস বা দুন এক্সপ্রেসে হরিদ্বার নামতে হবে। হরিদ্বার থেকে হৃষিকেশের দূরত্ব মাত্র ২৫ কিমি (ট্যাক্সি বা অটোতে ১ ঘণ্টা)।
আনুমানিক খরচ (৪ জনের পরিবার, ৪-৫ দিন):
থাকা, খাওয়া এবং সাধারণ অ্যাডভেঞ্চার অ্যাক্টিভিটি মিলিয়ে প্রায় ৫৫,০০০ – ৭৫,০০০ টাকা (ফ্লাইট বা ট্রেনের টিকিট বাদে)।
২. গুলমার্গ, জম্মু ও কাশ্মীর: বরফের রাজ্যে রাজকীয় অভিযান

কাশ্মীরের গুলমার্গ শুধু তার সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং শীতকালীন পরিবার-বান্ধব অ্যাডভেঞ্চার গন্তব্য। যদি আপনার পরিবার বরফ ভালোবাসে, তবে এটিই সেরা গন্তব্য।
পরিবারের জন্য এখানে কী আছে?
- গন্ডোলা রাইড: এটি বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ক্যাবল কার। দুই ধাপে এই যাত্রা আপনাকে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪,০০০ ফুট উপরে নিয়ে যাবে। উপর থেকে বরফে ঢাকা পাহাড়ের দৃশ্য আপনার সারা জীবন মনে থাকবে।
- স্কিইং ও স্লেজিং: গুলমার্গে পেশাদারদের পাশাপাশি নতুনদের জন্যও স্কি শেখার ব্যবস্থা আছে। ছোট ছোট বাচ্চারা স্লেজ গাড়িতে বসে পাহাড়ের ঢাল দিয়ে নেমে আসা দারুণ উপভোগ করে।
- ট্রেকিং: হালকা বরফের ওপর দিয়ে খিলানমার্গ পর্যন্ত ছোট ট্রেকিং পরিবারের সবার জন্য বেশ আনন্দদায়ক।
ভ্রমণের সেরা সময়: বরফের জন্য ডিসেম্বর থেকে মার্চ।
প্রো-টিপ: অতিরিক্ত উচ্চতায় অক্সিজেনের সমস্যা হতে পারে, তাই সাথে প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং গরম কাপড় রাখতে ভুলবেন না।
কলকাতা থেকে পৌঁছানোর উপায়:
- বিমানে: কলকাতা থেকে শ্রীনগর বিমানবন্দর (দিল্লি হয়ে কানেক্টিং ফ্লাইট)। শ্রীনগর থেকে গুলমার্গের দূরত্ব প্রায় ৫০ কিমি, যা ট্যাক্সিতে ২-৩ ঘণ্টা লাগে।
- ট্রেনে: কলকাতা থেকে জম্মু-তাওয়াই এক্সপ্রেস বা হিমগিরি এক্সপ্রেসে জম্মু নামতে হবে। সেখান থেকে ট্যাক্সিতে শ্রীনগর হয়ে গুলমার্গ (দীর্ঘ পথ, প্রায় ৮-১০ ঘণ্টা)।
আনুমানিক খরচ (৪ জনের পরিবার, ৪-৫ দিন):
কাশ্মীরের হোটেল এবং গন্ডোলা রাইড বেশ ব্যয়বহুল। আনুমানিক ১,২০,০০০ – ১,৫০,০০০ টাকা।
৩. মানালি ও সোলাং ভ্যালি, হিমাচল প্রদেশ: পাহাড়ের বহুমুখী অ্যাডভেঞ্চার

মানালি চিরকালই বাঙালিদের প্রিয়। তবে মানালির একটু উপরেই অবস্থিত সোলাং ভ্যালি মূলত অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের কেন্দ্রবিন্দু।
পরিবারের জন্য এখানে কী আছে?
- জর্বিং (Zorbing): একটি বড় প্লাস্টিকের বলের ভেতরে ঢুকে পাহাড়ের ঢাল দিয়ে গড়িয়ে পড়া। এটি বাচ্চাদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
- প্যারাগ্লাইডিং: আকাশে পাখির মতো ওড়ার শখ থাকলে সোলাং ভ্যালিতে তা পূরণ করতে পারেন। প্রশিক্ষিত পাইলটদের সাথে ট্যান্ডেম রাইডে বাচ্চারাও অংশ নিতে পারে।
- অ্যাটভি (ATV) রাইড: পাহাড়ি এবড়োখেবড়ো রাস্তায় চার চাকার বাইক চালানো এক অন্যরকম রোমাঞ্চ।
ভ্রমণের সেরা সময়: গ্রীষ্মকালে এপ্রিল থেকে জুন এবং শীতকালে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি।
প্রো-টিপ: অ্যাডভেঞ্চার এক্টিভিটি করার আগে সবসময় আবহাওয়া পরীক্ষা করে নিন।
কলকাতা থেকে পৌঁছানোর উপায়:
- বিমানে: কলকাতা থেকে দিল্লি বা চণ্ডীগড় ফ্লাইটে এসে সেখান থেকে ভলভো বাস বা প্রাইভেট ট্যাক্সিতে মানালি (১২-১৪ ঘণ্টা)।
- ট্রেনে: হাওড়া থেকে নেতাজি এক্সপ্রেস (পূর্বের কালকা মেল) বা রাজধানী এক্সপ্রেসে দিল্লি বা চণ্ডীগড়। সেখান থেকে সড়কপথে মানালি।
আনুমানিক খরচ (৪ জনের পরিবার, ৫-৬ দিন):
থাকা, খাওয়া এবং প্যারাগ্লাইডিং/জর্বিং মিলিয়ে প্রায় ৮০,০০০ – ১,১০,০০০ টাকা।
৪. আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ: নীল জলের গভীরে লুকানো বিস্ময়

সমুদ্রের তলদেশের সৌন্দর্য দেখার জন্য আন্দামানের কোনো বিকল্প নেই। এখানকার স্বচ্ছ নীল জল আর রঙিন প্রবাল প্রাচীর একে পরিবার-বান্ধব অ্যাডভেঞ্চার গন্তব্য করে তুলেছে।
পরিবারের জন্য এখানে কী আছে?
- স্নরকেলিং ও স্কুবা ডাইভিং: হ্যাভলক দ্বীপের এলিফ্যান্ট বিচ বা নীল দ্বীপে পরিবারের সবাই মিলে স্কুবা ডাইভিং করতে পারেন। এমনকি যারা সাঁতার জানেন না, তাদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা থাকে।
- সি-ওয়াক (Sea Walk): এটি পরিবারের বয়স্কদের জন্য সেরা। মাথায় একটি বিশেষ হেলমেট পরে সমুদ্রের তলদেশে হেঁটে বেড়ানো এবং মাছদের খাওয়াতে পারাটা সত্যিই জাদুকরী।
- গ্লাস বটম বোট রাইড: যারা জলে নামতে ভয় পান, তারা কাঁচের তলার নৌকা দিয়ে সমুদ্রের প্রাণিজগৎ দেখতে পারেন।
ভ্রমণের সেরা সময়: অক্টোবর থেকে মে মাস।
প্রো-টিপ: আন্দামানে যাতায়াতের জন্য ফেরি টিকিট অনেক আগে থেকে বুক করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
কলকাতা থেকে পৌঁছানোর উপায়:
- বিমানে: কলকাতা বিমানবন্দর থেকে পোর্ট ব্লেয়ার (Veer Savarkar International Airport) সরাসরি ফ্লাইট পাওয়া যায় (সময় লাগে ২.৫ ঘণ্টা)। এটিই সবথেকে সহজ ও আরামদায়ক পথ।
- জাহাজে: কলকাতার খিদিরপুর পোর্ট থেকে শিপ পাওয়া যায়, তবে এটি পৌঁছাতে ৩-৪ দিন সময় নেয় এবং পরিবারের জন্য খুব একটা সুবিধাজনক নয়।
আনুমানিক খরচ (৪ জনের পরিবার, ৫-৬ দিন):
আইল্যান্ড হপিং এবং স্কুবা ডাইভিংয়ের খরচ সহ প্রায় ১,৫০,০০০ – ২,০০,০০০ টাকা।
আরও পড়ুন – ভারতের সেরা অ্যাডভেঞ্চার স্পট লাদাখ থেকে আন্দামান, সেরা 10টি
৫. জিম করবেট ন্যাশনাল পার্ক, উত্তরাখণ্ড: অরণ্যের রোমাঞ্চ

আপনি যদি বন্যপ্রাণী এবং অরণ্য ভালোবাসেন, তবে জিম করবেট আপনার পরিবারের জন্য সেরা গন্তব্য। ভারতের প্রাচীনতম এই জাতীয় উদ্যান বাঘ দেখার জন্য বিখ্যাত।
পরিবারের জন্য এখানে কী আছে?
- জিপ সাফারি: খোলা জিপে করে বনের গভীরে ঢুকে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ এবং হাতি খোঁজার আনন্দ অতুলনীয়। এটি বাচ্চাদের জন্য এক জীবন্ত বিজ্ঞান ক্লাসের মতো, বলাযায় এটি সেরা পরিবার-বান্ধব অ্যাডভেঞ্চার গন্তব্য।
- ক্যানাটারি জঙ্গল ক্যাম্প: জঙ্গলের কোর এরিয়াতে রাত কাটানো এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা। রাতের নিস্তব্ধতায় বন্য প্রাণীদের ডাক আপনাকে অন্য জগতে নিয়ে যাবে।
- বার্ড ওয়াচিং: করবেটে শত শত প্রজাতির পাখি দেখা যায়, যা শিশুদের মধ্যে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলে।
ভ্রমণের সেরা সময়: নভেম্বর থেকে জুন।
প্রো-টিপ: ঢিকলা জোনে থাকার জন্য অন্তত ৩-৪ মাস আগে সরকারি ওয়েবসাইট থেকে পারমিট বুক করতে হয়।
কলকাতা থেকে পৌঁছানোর উপায়:
- ট্রেনে: কলকাতা থেকে বাঘ এক্সপ্রেস বা অমৃতসর মেলের মাধ্যমে রামনগর (নিকটবর্তী স্টেশন) পৌঁছানো যায় (দিল্লি বা মোরাদাবাদ হয়ে)।
- বিমানে: কলকাতা থেকে দিল্লি বা পান্তনগর বিমানবন্দর। পান্তনগর থেকে করবেট মাত্র ২ ঘণ্টার পথ।
আনুমানিক খরচ (৪ জনের পরিবার, ৩-৪ দিন):
সাফারি বুকিং এবং রিসোর্ট খরচ মিলিয়ে প্রায় ৬০,০০০ – ৮০,০০০ টাকা।
আরও পড়ুন : ওডিশার সেরা ১১ টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য – সপরিবারে দেখুন
৬. মুন্নার ও থেক্কাডি, কেরালা: দক্ষিণ ভারতের সবুজ অভিযান

কেরালা মানেই শুধু হাউসবোট নয়, বরং মুন্নার এবং থেক্কাডিতে রয়েছে প্রচুর রোমাঞ্চকর কাজ। এখানকার চা বাগান আর পেরিয়ার অভয়ারণ্য অ্যাডভেঞ্চারের জন্য আদর্শ।
পরিবারের জন্য এখানে কী আছে?
- ব্যাম্বু রাফটিং (Bamboo Rafting): থেক্কাডির পেরিয়ার হ্রদে বাঁশের ভেলায় চড়ে ঘুরে বেড়ানো। এটি যেমন শান্ত, তেমনি এর সাথে জড়িয়ে থাকে বন্যপ্রাণী দেখার সম্ভাবনা।
- ট্রেকিং ও হাইকিং: মুন্নারের চা বাগানের মধ্যে দিয়ে ছোট ছোট হাইকিং রুট রয়েছে যা পরিবারের সবার জন্য আরামদায়ক।
- এলিফ্যান্ট রাইড ও স্নান: হাতির পিঠে চড়া এবং হাতিকে স্নান করানো বাচ্চাদের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ভ্রমণের সেরা সময়: সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ।
প্রো-টিপ: কেরালায় ভ্রমণের সময় স্থানীয় কলারিপায়াত্তু (মার্শাল আর্ট) শো দেখতে ভুলবেন না।
কলকাতা থেকে পৌঁছানোর উপায়:
- বিমানে: কলকাতা থেকে কোচি (Cochin International Airport) সরাসরি বা কানেক্টিং ফ্লাইট। কোচি থেকে মুন্নার যেতে ট্যাক্সিতে ৪ ঘণ্টা সময় লাগে।
- ট্রেনে: হাওড়া থেকে চেন্নাই হয়ে এর্নাকুলাম বা শালিমার-তিরুবনন্তপুরম এক্সপ্রেস। ট্রেন ভ্রমণ এখানে বেশ দীর্ঘ (প্রায় ৩৬-৪০ ঘণ্টা)।
আনুমানিক খরচ (৪ জনের পরিবার, ৫-৬ দিন):
কেরালা ভ্রমণ কিছুটা সাশ্রয়ী হতে পারে যদি আগে থেকে বুক করা থাকে। আনুমানিক ১,০০,০০০ – ১,৩০,০০০ টাকা।
৭. লেহ-লাদাখ: সাহসিকতার চরম পরীক্ষা

লাদাখ বলতেই আমাদের মাথায় আসে বাইক রাইডারদের কথা। কিন্তু বর্তমানে লাদাখ একটি চমৎকার ফ্যামিলি অ্যাডভেঞ্চার গন্তব্য হয়ে উঠেছে। তবে এর জন্য কিছুটা বাড়তি প্রস্তুতির প্রয়োজন।
পরিবারের জন্য এখানে কী আছে?
- ব্যাকট্রিয়ান উট সাফারি: নুব্রা ভ্যালির কোল্ড ডেজার্টে দুই কুঁজওয়ালা উটের পিঠে চড়া এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
- প্যাংগং লেক ক্যাম্পিং: নীল হ্রদের তীরে তাবু খাটিয়ে থাকা। রাতের আকাশের গ্যালাক্সি দেখা এখান থেকে সবথেকে পরিষ্কার হয়।
- ম্যাগনেটিক হিল: যেখানে গাড়ি নিজে থেকেই পাহাড়ের দিকে উঠতে থাকে। এই রহস্যময় দৃশ্য ছোট-বড় সবাই উপভোগ করে।
ভ্রমণের সেরা সময়: জুন থেকে সেপ্টেম্বর।
প্রো-টিপ: লাদাখে পৌঁছানোর পর প্রথম ২৪-৪৮ ঘণ্টা পূর্ণ বিশ্রাম নিন যাতে শরীর উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে পারে (Acclimatization)।
কলকাতা থেকে পৌঁছানোর উপায়:
- বিমানে: কলকাতা থেকে সরাসরি লেহ্ (Leh) এর ফ্লাইট নেই। আপনাকে দিল্লি হয়ে কানেক্টিং ফ্লাইটে পৌঁছাতে হবে।
- সড়কপথে: ট্রেন বা ফ্লাইটে চণ্ডীগড় বা মানালি পৌঁছে সেখান থেকে রোমাঞ্চকর মানালি-লেহ হাইওয়ে দিয়ে ক্যাবে যেতে পারেন (এটি অত্যন্ত অ্যাডভেঞ্চারাস তবে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে কষ্টকর হতে পারে)।
আনুমানিক খরচ (৪ জনের পরিবার, ৬-৭ দিন):
লাদাখে পারমিট ফি এবং ট্যাক্সি ভাড়া বেশি। আনুমানিক ১,৮০,০০০ – ২,৫০,০০০ টাকা।
আরও পড়ুন : লাদাখ বাইক ট্যুর – জীবনের সেরা অভিজ্ঞতার সম্পূর্ণ গাইড
অ্যাডভেঞ্চার ট্রিপের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস (Guiding Tips)
পরিবারের সাথে অ্যাডভেঞ্চার ট্রিপ মানেই অনেক পরিকল্পনা। একজন অভিজ্ঞ ভ্রমণ লেখক হিসেবে আমার পরামর্শগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. শারীরিক প্রস্তুতি: পাহাড়ে বা ট্রেকিংয়ে যাওয়ার অন্তত ১৫ দিন আগে থেকে হালকা ব্যায়াম বা হাঁটা শুরু করুন। এতে আপনার স্ট্যামিনা বাড়বে।
২. সঠিক পোশাক: গন্তব্যের আবহাওয়া অনুযায়ী পোশাক নিন। পাহাড়ে লেয়ারিং (একটার ওপর একটা কাপড় পড়া) বেশি কার্যকর। ভালো গ্রিপওয়ালা জুতো মাস্ট।
৩. ফার্স্ট এইড কিট: সাধারণ জ্বর, পেটের সমস্যা, ব্যান্ডেজ এবং অ্যান্টিসেপটিকের পাশাপাশি উচ্চতা জনিত সমস্যার ওষুধ সাথে রাখুন।
৪. বীমা বা ইনস্যুরেন্স: অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসে ঝুঁকি থাকে, তাই ভালো একটি ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স করিয়ে রাখা সবসময় নিরাপদ।
৫. বাচ্চাদের সম্পৃক্ত করুন: পরিকল্পনা করার সময় বাচ্চাদের মতামত নিন। এতে তারা ভ্রমণের প্রতি বেশি আগ্রহী হবে।
৬. পরিবেশ রক্ষা: মনে রাখবেন, আমরা প্রকৃতির অতিথি। কোনোভাবেই প্লাস্টিক বা ময়লা যেখানে সেখানে ফেলবেন না।
উপসংহার
জীবনটা শুধু ইঁদুর দৌড়ের জন্য নয়, বরং মাঝেমধ্যে প্রকৃতির কাছে গিয়ে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার নামই হলো ভ্রমণ। এই ৭টি গন্তব্য আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে শুধু আনন্দই দেবে না, বরং একে অপরের সাথে সম্পর্ক আরও মজবুত করতে সাহায্য করবে। পাহাড়ের চূড়া থেকে সমুদ্রের গভীরতা—ভারতের প্রতিটি কোণে লুকিয়ে আছে রোমাঞ্চ।
তাহলে আর দেরি কেন? ব্যাগ গুছিয়ে ফেলুন এবং আপনার পরিবারের সাথে বেরিয়ে পড়ুন এক নতুন অভিযানে। মনে রাখবেন, “অ্যাডভেঞ্চার হতে পারে বিপজ্জনক, কিন্তু একঘেয়েমি হলো প্রাণঘাতী।”
দ্রষ্টব্য: এই খরচগুলো একটি গড় হিসেব (Mid-range)। আপনার হোটেলের মান, খাবারের পছন্দ এবং যাতায়াতের মাধ্যমের ওপর ভিত্তি করে এই খরচ কম বা বেশি হতে পারে। ২০২৬ সালের পর্যটন ট্রেন্ড অনুযায়ী, পিক সিজনে (যেমন- পুজো বা ক্রিসমাস) খরচ ২০-৩০% বেড়ে যেতে পারে।
শুভ ভ্রমণ !

প্রতীক দত্তগুপ্ত, থাকেন কলকাতায়, কাজ বাদে বেড়ানোই যার প্রথম ভালবাসা। এই কয়েক বছর হল বেড়ানোর সাথে কলমও ধরেছেন । তিনি শুধুমাত্র যে জায়গাগুলি পরিদর্শন করেছেন সেগুলি সম্পর্কেই ব্লগ করেন না, তবে তিনি তার অনুগামীদের জন্য টিপস, কৌশল এবং নির্দেশিকাগুলি সম্পর্কেও পোস্ট করেন৷