কোরাপুট ভ্রমণ: ওড়িশার লুকোনো রত্ন — শান্ত অচেনা এক পাহাড়ি জগৎ

কোরাপুট ভ্রমণ গাইড জানায় কিভাবে ঘুরবেন ওড়িশার পূর্বঘাট পর্বতমালার কোলে শান্ত ও উপজাতী সংস্কৃতি ঘেরা শবর শ্রীক্ষেত্র, দেওমালি বা ডুডুমা জলপ্রপাত।

কোরাপুট ভ্রমণ

পুরী কিংবা ভুবনেশ্বর নয়, ওড়িশার মানচিত্রে এমন একটা জায়গা আছে, যেখানে ঘন সবুজ উপত্যকা, ৮৭০ মিটার উচ্চতার মালভূমি, আদিবাসী সংস্কৃতি আর অজানা জলপ্রপাত একসাথে হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে। জায়গাটার নাম কোরাপুট (Koraput)। স্থানীয়রা একে আদর করে ডাকেন “ওড়িশার দ্বিতীয় কাশ্মীর”। যাঁরা পুরীর ভিড়, দিঘার সমুদ্রতটের জ্যাম কিংবা দার্জিলিং-সিকিমের মরশুমি পর্যটকের ঠেলাঠেলি এড়িয়ে সত্যিকারের নির্জন, প্রকৃতিলগ্ন একটা ভ্রমণ খুঁজছেন, কোরাপুট ভ্রমণ তাঁদের জন্যই।

এই লেখায় বিস্তারিত থাকছে — কোরাপুট ভ্রমণ কেন বিশেষ, কলকাতা থেকে কীভাবে যাবেন, কি কি দেখবেন, কোথায় থাকবেন, এবং সামগ্রিক খরচের একটা বাস্তবসম্মত ধারণা।

Table of Contents

কোরাপুট আসলে কোথায়, আর কেন এত বিশেষ

কোরাপুট দক্ষিণ ওড়িশার একটি জেলা ও জেলাসদর শহর, যা রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত এবং এক সময় মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির অংশ ছিল — ১৯৩৬ সালের ১ এপ্রিল ওড়িশা রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়। শহরটি প্রায় ৮৭০ মিটার (প্রায় ২,৮৫০ ফুট) উচ্চতায়, পূর্বঘাট পর্বতমালার কোলে অবস্থিত বলে সারা বছর জলবায়ু তুলনামূলক মনোরম।

এই জেলার ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে বংশধারা, মাচকুন্দ ও কোলাব — এই তিনটি প্রধান নদী, যেগুলি জেলার প্রায় প্রতিটি কোণে সবুজ আর জলধারার এক অপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি করেছে। কোরাপুট আসলে পাহাড়, জলপ্রপাত আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা এক মালভূমি-শহর, যেখানে ওড়িশার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ দেওমালিও অবস্থিত।

তবে কোরাপুট ভ্রমণের আসল আকর্ষণ শুধু প্রকৃতি নয় — এই জেলা ভারতের অন্যতম সমৃদ্ধ আদিবাসী-অধ্যুষিত অঞ্চল। পরোজা, গদাবা, বোন্ডা-র মতো একাধিক আদিবাসী গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, পোশাক, নৃত্য আর হস্তশিল্পের ঐতিহ্য এখানে আজও অটুট। যাঁরা শুধু ছবির মতো দৃশ্য নয়, একটা জীবন্ত সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে চান, তাঁদের কাছে কোরাপুট একেবারে অন্যরকম অভিজ্ঞতা এনে দেয়। এখানকার কাঠের কাজ, পাথর খোদাই এবং হাতে বোনা কাপড়ের কাজও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

সবচেয়ে বড় কথা — এখনও পর্যন্ত কোরাপুট গণপর্যটনের ভিড় থেকে মুক্ত। এখানে গেলে আপনি সেলফি-লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার পর্যটকের বদলে দেখবেন ফাঁকা রাস্তা, কুয়াশা-মোড়া উপত্যকা আর স্থানীয় মানুষের সহজ আতিথেয়তা।

আরও পড়ুন – শীতে ওডিশার সেরা ১০টি ট্রেকিং স্পট – অ্যাডভেঞ্চার গাইড

কলকাতা থেকে কোরাপুট কীভাবে যাবেন

ট্রেনে

কলকাতা (হাওড়া) থেকে কোরাপুট যাওয়ার সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় উপায় হল সরাসরি ট্রেন। ১৮০০৫ সম্বলেশ্বরী এক্সপ্রেস (Sambaleswari Express) হাওড়া থেকে রাত প্রায় ১০টা নাগাদ ছাড়ে এবং প্রায় ২০-২১ ঘণ্টা সফর করে পরদিন সন্ধ্যার দিকে কোরাপুট স্টেশনে (স্টেশন কোড KRPU) পৌঁছয়। দূরত্ব প্রায় ১,০৫৭ কিলোমিটার। ফেরার পথে একই রুটে চলে ১৮০০৬ কোরাপুট-হাওড়া এক্সপ্রেস

স্লিপার ক্লাসে ভাড়া মোটামুটি ৫০০-৬০০ টাকার মধ্যে শুরু হয়, থ্রি-টায়ার এসিতে পড়বে প্রায় ১,৪০০-১,৬০০ টাকা আশেপাশে (সময় ও চাহিদা অনুযায়ী ভাড়া ওঠানামা করে, তাই বুকিংয়ের আগে IRCTC-তে সর্বশেষ ভাড়া যাচাই করে নেওয়াই ভালো)। এই ট্রেনেই সরাসরি স্টেশনে পৌঁছে যাওয়া যায় বলে এটাই সবচেয়ে ঝক্কিহীন উপায়।

বিমানে

কোরাপুটের নিজস্ব বিমানবন্দর (জয়পুরে) থাকলেও তার সংযোগ এখনও সীমিত ও অনিয়মিত। তাই বেশিরভাগ পর্যটক ব্যবহার করেন বিশাখাপত্তনম বিমানবন্দর (VTZ), যা কোরাপুট থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে। কলকাতা থেকে বিশাখাপত্তনমে সরাসরি ফ্লাইট পাওয়া যায় (উড়ানসময় প্রায় দেড়-দুই ঘণ্টা)। সেখান থেকে ট্যাক্সি বা বাসে কোরাপুট পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় ৪-৫ ঘণ্টা।

বিকল্প হিসেবে ভুবনেশ্বর বিমানবন্দরেও নামা যায়, কিন্তু সেখান থেকে কোরাপুটের দূরত্ব প্রায় ৫০০ কিলোমিটার, ফলে সড়কপথে সময় অনেকটাই বেশি লাগে।

সড়কপথে

যাঁরা রেল বা বিমানের বদলে বাসে যেতে চান, ভুবনেশ্বর-বিশাখাপত্তনম রুট হয়ে NH-26 ধরে কোরাপুট পৌঁছনো যায়। ভুবনেশ্বর, ব্রহ্মপুর, বিজয়নগরম ও বিশাখাপত্তনম থেকে নিয়মিত রাত্রিকালীন বাস পাওয়া যায়। তবে কলকাতা থেকে সরাসরি বাসে গেলে যাত্রাপথ বেশ দীর্ঘ (প্রায় ২৪-২৮ ঘণ্টা মতো লাগতে পারে রাস্তার অবস্থার ওপর নির্ভর করে), তাই ট্রেনই বেশি আরামদায়ক বিকল্প।

সংক্ষেপে বলা যায় — সময় ও আরাম বিচারে কলকাতা থেকে কোরাপুট যাওয়ার সেরা উপায় সরাসরি ট্রেন (সম্বলেশ্বরী এক্সপ্রেস); দ্রুততম উপায় বিমান হয়ে বিশাখাপত্তনম, তারপর সড়কপথ।

কোরাপুটে কী কী দেখবেন

সবর শ্রীক্ষেত্র (জগন্নাথ মন্দির)

সবর শ্রীক্ষেত্র

কোরাপুট শহরের প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের ওপর অবস্থিত এই জগন্নাথ মন্দিরটি ১৯৭২ সালে নির্মিত হয় এবং এটি ওড়িশার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জগন্নাথ মন্দির হিসেবে পরিচিত, কারণ এখানে পুজো-অর্চনার দায়িত্বে থাকেন স্থানীয় আদিবাসী পুরোহিতরা — যা ভারতের আর কোথাও প্রায় দেখা যায় না।

দেওমালি — ওড়িশার শীর্ষবিন্দু

দেওমালি

কোরাপুট থেকে প্রায় ৬২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দেওমালি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৬৭২ মিটার উঁচু — এটাই ওড়িশার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। এখানকার আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা, কুয়াশা আর হালকা ঠান্ডা হাওয়া ট্রেকিংপ্রেমীদের জন্য আদর্শ। ইকো-ট্যুরিজম আর ট্রেকিংয়ের জন্য এটি এখন ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

ডুডুমা জলপ্রপাত

জয়পুর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে, ওড়িশা-অন্ধ্রপ্রদেশ সীমান্তে মাচকুন্দ নদীর ওপর অবস্থিত এই বিশাল ডুডুমা জলপ্রপাত কোরাপুট ভ্রমণের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। পর্যটন দপ্তর সম্প্রতি একটি অবজারভেশন ডেক তৈরি করেছে, যেখান থেকে জলপ্রপাতের বিশাল রূপ স্পষ্ট দেখা যায়। যাওয়ার রাস্তাটাও দারুণ — দীর্ঘ সবুজ উপত্যকা চিরে যাওয়া মসৃণ পাহাড়ি পথ।

কোলাব ড্যাম ও কোলাব নদী

কোরাপুটের কাছেই কোলাব নদীর ওপর তৈরি এই বাঁধ এলাকা পিকনিক ও প্রকৃতি দর্শনের জন্য জনপ্রিয়। জলাধারের চারপাশের সবুজ পাহাড় আর শান্ত পরিবেশ শহুরে কোলাহল থেকে মুক্তি খোঁজা পর্যটকদের কাছে দারুণ পছন্দের।

ট্রাইবাল মিউজিয়াম, কোরাপুট

ট্রাইবাল মিউজিয়াম, কোরাপুট

১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরে ওড়িশার আদিবাসীদের পোশাক, হাতে বোনা কাপড়, বাদ্যযন্ত্র ও দৈনন্দিন জীবনের সামগ্রীর প্রামাণ্য সংগ্রহ রয়েছে। যাঁরা এই অঞ্চলের আদিবাসী সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীরে জানতে চান, তাঁদের জন্য এটি একটি আবশ্যিক গন্তব্য।

দামানজোড়ি হনুমান মূর্তি ও নালকো টাউনশিপ

কোরাপুট ও সুনাবেদার মাঝামাঝি অবস্থিত দামানজোড়িতে এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম অ্যালুমিনা কমপ্লেক্স নালকো অবস্থিত। এখানেই আছে বিশ্বের দ্বিতীয় উচ্চতম হনুমান মূর্তি, যার উচ্চতা প্রায় ১০৮.৯ ফুট (৩৩.১ মিটার)।

জৈন মঠের ধ্বংসাবশেষ ও বাল্মীকি আশ্রম

সুনাবেদা থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার ও কোরাপুট থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দূরে একটি রাস্তার ধারের গ্রামে প্রাচীন জৈন মঠের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়, যেখানে তীর্থঙ্করদের বিরল মূর্তি সংরক্ষিত আছে। এ ছাড়া নন্দপুর ব্লকে মাচকুন্দ নদীর তীরে রাজা কেভ ও বাল্মীকি আশ্রম (কপাট পর্বত নামেও পরিচিত) রয়েছে — ট্রেকিং ও গুহা-পর্যটনের জন্য দারুণ জায়গা।

বালডা কেভ

কোরাপুটের অপেক্ষাকৃত কম-চেনা কিন্তু চমৎকার একটি জায়গা — পূর্বঘাট পর্বতমালার প্যানোরামিক দৃশ্য বালডা কেভ থেকে দেখা যায়, আর বালডা কেভের ভেতরের অংশ ছবি তোলার জন্যও দারুণ।

আরও দেখুন – শীতে বেড়াতে চলুন ওড়িশার সেরা 10 টি শৈলশহর বা Hill stations

কোথায় থাকবেন — বাজেট থেকে মাঝারি বিকল্প

কোরাপুট এখনও বড় বড় চেইন হোটেলের ভিড়ে ঢাকা পড়েনি — যা একদিকে এর সৌন্দর্য, অন্যদিকে থাকার ব্যবস্থা তুলনামূলক সীমিত ও সাধারণ। তবে বাজেট ও মাঝারি বাজেটের বেশ কিছু ভরসাযোগ্য বিকল্প আছে:

  • পান্থনিবাস (OTDC), কোরাপুট — ওড়িশা সরকারের পর্যটন নিগম পরিচালিত এই হোটেল চেইন রাজ্যের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রে আছে, কোরাপুটেও একটি শাখা রয়েছে। সরকারি হোটেল হওয়ায় দাম মাঝারি বাজেটের মধ্যেই থাকে এবং সকালের চা ও ব্রেকফাস্ট সাধারণত তারিফের সঙ্গেই অন্তর্ভুক্ত থাকে। বুকিংয়ের আগে OTDC-র ওয়েবসাইট বা স্থানীয় অফিস থেকে হালনাগাদ তারিফ যাচাই করে নেওয়া ভালো, কারণ সময়ে সময়ে দাম পরিবর্তিত হয়।
  • অতিথি ভবন — জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ পরিচালিত এই হোটেলটি কোরাপুট শহরের কেন্দ্রে, সবর শ্রীক্ষেত্র মন্দিরের ঠিক নিচেই অবস্থিত। এটি খুবই সাশ্রয়ী — নন-এসি ঘরের ভাড়া মোটামুটি ৩০০ টাকা আর এসি ঘরের ভাড়া প্রায় ৫০০ টাকা প্রতি রাত (তবে অগ্রিম বুকিং প্রয়োজন হতে পারে, তাই আগে থেকে ফোনে যোগাযোগ করে নেওয়া নিরাপদ)।
  • স্থানীয় লজ ও বেসরকারি হোটেল — কোরাপুট ও জয়পুর শহরে বেশ কিছু মাঝারি মানের বেসরকারি হোটেল আছে, যেখানে ডাবল রুম সাধারণত ৮০০ থেকে ২,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায় (সিজন ও সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী তারতম্য হয়)।
  • নেচার ক্যাম্প ও রিসোর্ট — ওড়িশা পর্যটন দপ্তর দেওমালি ও আশপাশের এলাকায় ইকো-ট্যুরিজম ক্যাম্প গড়ে তুলছে, যা প্রকৃতির একেবারে কাছাকাছি থাকার অভিজ্ঞতা দেয়। এগুলোর তথ্য ও বুকিং আগে থেকে স্থানীয় পর্যটন অফিস বা OTDC-র মাধ্যমে যাচাই করে নেওয়া ভালো।

পরামর্শ: কোরাপুট এখনও বড় ট্র্যাভেল পোর্টালে সব হোটেলের হালনাগাদ তথ্য বা রিয়েল-টাইম দাম দেখায় না। তাই যাত্রার আগে সরাসরি ফোনে বুকিং নিশ্চিত করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আনুমানিক খরচের হিসাব (একজন যাত্রীর জন্য, কলকাতা থেকে)

নিচের হিসাবটি মাঝারি বাজেটের একজন ভ্রমণকারীর ৪-৫ দিনের ভ্রমণের একটা মোটামুটি ধারণা দেয় — বাস্তব খরচ ঋতু, সময় ও ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী কমবেশি হতে পারে:

খাতআনুমানিক খরচ (টাকা)
ট্রেন (হাওড়া-কোরাপুট, স্লিপার, যাওয়া-আসা)১,০০০ – ১,২০০
ট্রেন (থ্রি-টায়ার এসি, যাওয়া-আসা)২,৮০০ – ৩,২০০
থাকা (বাজেট হোটেল, প্রতি রাত)৫০০ – ১,৫০০
স্থানীয় যাতায়াত (ট্যাক্সি/অটো, প্রতিদিন সাইটসিয়িং)৮০০ – ১,৫০০
খাওয়াদাওয়া (প্রতিদিন)৪০০ – ৭০০
প্রবেশমূল্য/গাইড/বিবিধ৩০০ – ৫০০

সব মিলিয়ে, স্লিপার ক্লাসে ট্রেনে গিয়ে বাজেট হোটেলে ৪ রাত থাকলে মোট খরচ মোটামুটি ৫,৫০০ থেকে ৭,৫০০ টাকা-র মধ্যে সেরে ফেলা সম্ভব একজন যাত্রীর জন্য। দুই বা তার বেশি জন একসঙ্গে গেলে থাকা ও গাড়ি ভাড়ার খরচ ভাগ হয়ে যাওয়ায় মাথাপিছু খরচ আরও কমে আসে। এসি ট্রেনে ও তুলনামূলক ভালো হোটেলে থাকলে সেটা বেড়ে ১০,০০০-১২,০০০ টাকা-র কাছাকাছি দাঁড়াতে পারে।

কখন যাবেন কোরাপুট?

কোরাপুট ভ্রমণের সেরা সময় অক্টোবর থেকে মার্চ — এই সময় আবহাওয়া মনোরম থাকে, সাইটসিয়িংয়ের জন্য আদর্শ। জুন থেকে সেপ্টেম্বর ভারী বৃষ্টির মরশুম হওয়ায় এই সময় এড়িয়ে যাওয়াই ভালো, যদিও বর্ষার পরে জুলাই-আগস্টে জলপ্রপাতগুলো সবচেয়ে পূর্ণরূপে দেখা যায় — শুধু রাস্তার অবস্থা ও নিরাপত্তা বিবেচনা করে যেতে হবে।

আরও পড়ুন :- কলকাতা পুরী রোড ট্রিপ কোন পথে, কোথায় থামবেন, সব তথ্য

ভ্রমণের কয়েকটা জরুরি পরামর্শ

  • স্থানীয় গাইড নিন — বিশেষ করে দেওমালি ট্রেকিং বা প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রাম ঘোরার সময় স্থানীয় গাইড সঙ্গে রাখা নিরাপদ ও তথ্যবহুল দুটোই।
  • আদিবাসী গ্রাম পরিদর্শনে সংবেদনশীল থাকুন — ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন, স্থানীয় রীতিনীতিকে সম্মান জানান। এটা শুধু ভদ্রতা নয়, দায়িত্বশীল পর্যটনের অংশ।
  • নগদ টাকা সঙ্গে রাখুন — ছোট শহর ও প্রত্যন্ত এলাকায় কার্ড বা ডিজিটাল পেমেন্টের সুবিধা সবসময় থাকে না।
  • আগে থেকে বুকিং নিশ্চিত করুন — হোটেল সংখ্যা সীমিত হওয়ায়, বিশেষত উৎসবের মরশুমে বা সপ্তাহান্তে, আগেভাগে ফোনে যোগাযোগ করে রাখাই ভালো।
  • স্থানীয় খাবার চেখে দেখুন — আদিবাসী রন্ধনশৈলীর সরল অথচ স্বাদু পদ, বিশেষত বাঁশের কোঁড়ল, মহুয়া ফুলের নানা পদ, স্থানীয় ডাল ও ভাতের নানারকম মিশেল অবশ্যই চেখে দেখার মতো।
  • মোবাইল নেটওয়ার্ক সীমিত — প্রত্যন্ত এলাকায় (যেমন দেওমালি বা কিছু আদিবাসী গ্রাম) নেটওয়ার্ক দুর্বল বা অনুপস্থিত থাকতে পারে, তাই জরুরি যোগাযোগের বিকল্প ব্যবস্থা রাখা ভালো।

শেষ কথা

কোরাপুট এমন এক গন্তব্য, যেখানে প্রকৃতি আর সংস্কৃতি একসঙ্গে হাঁটে — অথচ এখনও পর্যন্ত এটি জনপ্রিয় পর্যটন-মানচিত্রের বাইরে। যাঁরা পুরী-দিঘার চেনা ভিড় থেকে বেরিয়ে সত্যিকারের নির্জনতা, খাঁটি আদিবাসী সংস্কৃতি আর অচেনা পাহাড়ি সৌন্দর্যের সন্ধানে বেরোতে চান, তাঁদের জন্য কোরাপুট একেবারে যথাযথ বিকল্প। কম খরচে, তুলনামূলক কম সময়ে, আর সবচেয়ে বড় কথা — একেবারে অন্যরকম একটা অভিজ্ঞতা নিয়ে ফেরার সুযোগ এই কোরাপুটেই লুকিয়ে আছে।

তাই পরের বার ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময়, একবার ভাবুন — চেনা পথ ছেড়ে অচেনা কোরাপুটের দিকে পা বাড়ালে কেমন হয়?

Leave a Comment