বিভাগ: ভ্রমণ গাইড | ওড়িশা | গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ
পড়ার সময়: ১০ মিনিট
“ওড়িশা — যেখানে মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি মিলে যায় সমুদ্রের গর্জনে, যেখানে ইতিহাস কথা বলে পাথরের ভাষায়।”

কেন গ্রীষ্মে ওড়িশা?
বেশিরভাগ মানুষ ওড়িশার কথা শুনলেই ভাবেন শীতকালের পুরী, কোণার্কের সূর্যোদয়, কিংবা চিল্কা হ্রদের পরিযায়ী পাখির দল। কিন্তু আমি আপনাকে বলছি — গ্রীষ্মের ওড়িশা এক সম্পূর্ণ আলাদা অভিজ্ঞতা। এপ্রিল থেকে জুন — এই সময়টায় ওড়িশায় পর্যটকের ভিড় কম, হোটেলের দাম সাশ্রয়ী, এবং কিছু বিশেষ অনুভূতি আছে যা শুধু গ্রীষ্মেই পাওয়া সম্ভব।
হ্যাঁ, গরম পড়বে। কিন্তু একজন অভিজ্ঞ পথিক হিসেবে আমি জানি — সঠিক পরিকল্পনা থাকলে গ্রীষ্মের তাপও হয়ে ওঠে এক রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চারের অংশ। এই গাইডটি আপনার হাতে ধরে নিয়ে যাবে ওড়িশার গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের প্রতিটি কোণে — কোথায় যাবেন, কীভাবে যাবেন, কী খাবেন, কোথায় থাকবেন এবং কখন বেরোবেন।
চলুন শুরু করি।
গ্রীষ্মে ওড়িশা ভ্রমণের সেরা কারণগুলো
১. ভিড়মুক্ত দর্শনীয় স্থান
শীতকালে পুরীর সমুদ্র সৈকতে পা রাখার জায়গা থাকে না। কিন্তু গ্রীষ্মে? সকাল ৬টায় সেই একই সৈকতে আপনি প্রায় একা। ঢেউয়ের শব্দ শুনতে শুনতে হাঁটুন, কাউকে ধাক্কা দিতে হবে না, কোনো সেলফির লাইন নেই।
২. বাজেট ভ্রমণকারীদের স্বর্গ
অফ-সিজনে হোটেলের দাম ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। একই মানের ঘর আপনি অনেক কম টাকায় পাবেন। ট্রেনের আসনও পাওয়া সহজ।
৩. রথযাত্রার আনন্দ
জুন মাসের শেষে বা জুলাইয়ের শুরুতে পুরীতে বিখ্যাত রথযাত্রা উৎসব হয়। যদি আপনার সফর জুনের শেষ সপ্তাহকে ধরে, তাহলে জগন্নাথদেবের রথের রশি ধরার সৌভাগ্য হতে পারে।
৪. প্রকৃতির নিজস্ব রূপ
গ্রীষ্মে ওড়িশার বনাঞ্চল, বিশেষত সিমলিপাল জাতীয় উদ্যান, এক অন্য রূপ ধারণ করে। গাছপালা শুকনো পাতার পোশাক পরে দাঁড়িয়ে থাকে, আর বন্যপ্রাণী জলের কাছাকাছি আসে — ফলে দেখার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
গ্রীষ্মে ওড়িশার সেরা গন্তব্যসমূহ
🏖️ ১. পুরী — আত্মার শহর

ওড়িশা মানেই পুরী, এ কথা অনস্বীকার্য। জগন্নাথ মন্দির — হিন্দু ধর্মের চার ধামের একটি — গ্রীষ্মেও তার মহিমা অটুট রাখে। ভোরবেলা মন্দির দর্শনের চেষ্টা করুন যখন তাপমাত্রা সহনীয় এবং ভিড় কম।
গ্রীষ্মে পুরীতে কী করবেন:
- ভোর ৫টায় সমুদ্র সৈকতে গিয়ে সূর্যোদয় দেখুন — এই দৃশ্য সারাজীবন মনে থাকবে
- গোল্ডেন বিচে সকালের আলোয় হাঁটুন
- পুরীর বিখ্যাত ছানার জিলিপি এবং মালপুয়া খান
- স্থানীয় বাজারে পট্টচিত্র কিনুন — শিল্পীরা সরাসরি বিক্রি করেন, দাম কম
সতর্কতা: দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাইরে না বেরোনোই ভালো। হোটেলে বিশ্রাম নিন বা এয়ার কন্ডিশন্ড ক্যাফেতে বই পড়ুন।
আরও পড়ুন – পুরীর কাছাকাছি ঘোরার জায়গা, পুরী গেলে এই 9টি স্থান অবশ্যই ঘুরে দেখুন
☀️ ২. কোণার্ক — পাথরে খোদাই করা সময়
ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান কোণার্কের সূর্য মন্দির গ্রীষ্মে এক অদ্ভুত সৌন্দর্য পায়। সকালের নরম আলোয় পাথরের গায়ে যে ছায়া-আলোর খেলা হয়, তা দেখার জন্য ক্যামেরা প্রস্তুত রাখুন।
কখন যাবেন: ভোর ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে। এই সময়টায় তাপমাত্রা কম এবং আলো সুন্দর।
কীভাবে যাবেন: পুরী থেকে কোণার্ক মাত্র ৩৫ কিলোমিটার। শেয়ার অটো বা ভাড়ার গাড়িতে ৪৫ মিনিট।
দেখার সময়: কমপক্ষে ২-৩ ঘণ্টা রাখুন। মন্দির চত্বরের প্রতিটি পাথরের কারুকাজ — রথের চাকা, নর্তকীর মূর্তি, যুদ্ধের দৃশ্য — প্রতিটি বিস্তারিত দেখার যোগ্য।
প্রো টিপ: কোণার্ক মিউজিয়ামটিও দেখুন। ভেতরে এয়ার কন্ডিশন আছে এবং মন্দিরের ইতিহাস বোঝার জন্য এটি অপরিহার্য।
🦁 ৩. সিমলিপাল জাতীয় উদ্যান — জঙ্গলের ডাক

ওড়িশার উত্তরে ময়ূরভঞ্জ জেলায় অবস্থিত সিমলিপাল — বাঘ, হাতি, লেপার্ড এবং হরিণের আবাসভূমি। গ্রীষ্মে বন শুকনো হওয়ায় গাছের পাতা কম থাকে, ফলে বন্যপ্রাণী দেখার সম্ভাবনা বেশি।
গ্রীষ্মে সিমলিপালে যা দেখতে পাবেন:
- বাঘের পায়ের ছাপ (এবং সৌভাগ্য থাকলে বাঘ নিজেও!)
- হাতির দল জলাধারের কাছে
- বারেহিপানি ও জোড়ান্ডা জলপ্রপাত — বর্ষার আগে এগুলো কিছুটা শান্ত কিন্তু দেখার মতো
কীভাবে যাবেন: ভুবনেশ্বর থেকে বাহালদা বা বারিপদা হয়ে সিমলিপাল। দূরত্ব প্রায় ২৫০ কিলোমিটার।
প্রবেশের নিয়ম: আগে থেকে অনলাইনে পার্মিট নিতে হবে। জিপ সাফারি বুক করুন — সকালের সাফারিতে বন্যপ্রাণী দেখার সম্ভাবনা বেশি।
🏛️ ৪. ভুবনেশ্বর — মন্দিরের শহর
ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বরে পাঁচশোরও বেশি মন্দির আছে। গ্রীষ্মে এই শহর ভ্রমণের আদর্শ সুবিধা হলো — শহরের ভেতরে এয়ার কন্ডিশন্ড যানবাহন এবং রেস্তোরাঁর সুবিধা বেশি।
অবশ্যই দেখুন:
- লিঙ্গরাজ মন্দির: ১১শ শতাব্দীর এই মন্দির ওড়িশার স্থাপত্যের মুকুটমণি। ভোরবেলা দেখুন।
- মুক্তেশ্বর মন্দির: ছোট কিন্তু অসাধারণ কারুকাজ। ফটোগ্রাফারদের স্বর্গ।
- রাজারানী মন্দির: প্রেমের মন্দির — পাথরের গায়ে অপ্সরাদের মূর্তি অতুলনীয়।
- ওড়িশা রাজ্য জাদুঘর: গরমের দুপুরে এখানে কাটান — এয়ার কন্ডিশন্ড এবং জ্ঞানবর্ধক।
খাওয়াদাওয়া: ভুবনেশ্বরে দলমা (ডাল-সবজি), মাছের ঝোল, এবং রসগোল্লা — হ্যাঁ, রসগোল্লার জন্মস্থান কিন্তু ওড়িশা! পলাস রেস্তোরাঁ বা ফেমাস রেস্তোরাঁয় ওড়িশার থালি খান।
🌊 ৫. চিল্কা হ্রদ — এশিয়ার বৃহত্তম উপকূলীয় হ্রদ

গ্রীষ্মে চিল্কা হ্রদের পরিযায়ী পাখিরা চলে যায়, কিন্তু থাকে ইরাবতী ডলফিন। চিল্কার নীল জলে ডলফিনের লাফ দেখা — এটি একটি অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
কীভাবে যাবেন: ভুবনেশ্বর থেকে ১০০ কিলোমিটার। সকালের নৌকা যাত্রা বুক করুন।
সাতপাড়া দ্বীপ: এখান থেকে ডলফিন দেখার নৌকা ছাড়ে। ভোর ৭টায় বেরিয়ে পড়ুন — সকালে ডলফিন বেশি সক্রিয় থাকে।
🗿 ৬. উদয়গিরি ও খণ্ডগিরি গুহা — ইতিহাসের নিঃশ্বাস
ভুবনেশ্বরের কাছে এই জৈন গুহাগুলো দেখার জন্য গ্রীষ্মের ভোরবেলা আদর্শ। গুহার ভেতরে প্রাকৃতিক শীতলতা আছে। খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতাব্দীর এই গুহাচিত্র ও শিলালিপি দেখে মনে হবে সময় পিছিয়ে গেছে।
🌿 ৭. ধেনকানাল ও কপিলাশ — অজানা রত্ন
যারা ভিড় এড়াতে চান, তাদের জন্য ধেনকানাল একটি আদর্শ গন্তব্য। কপিলাশ মন্দির পাহাড়ের উপরে, ট্রেক করে উঠতে হয়। গ্রীষ্মের ভোরে এই ট্রেক করলে উপরে পৌঁছে যে ঠান্ডা বাতাস পাবেন, তা সমস্ত কষ্ট ভুলিয়ে দেবে।
আরও পড়ুন – ওড়িশার সেরা 12টি দর্শনীয় স্থান, জনপ্রিয় ও অফবিট গন্তব্য
গ্রীষ্মে ওড়িশা ভ্রমণের ব্যবহারিক গাইড
🌡️ আবহাওয়া ও তাপমাত্রা
| মাস | তাপমাত্রা (°C) | বৃষ্টি | পরামর্শ |
|---|---|---|---|
| এপ্রিল | ২৮–৩৮ | কম | সকাল ও সন্ধ্যা ভ্রমণ আদর্শ |
| মে | ৩০–৪২ | কম | সবচেয়ে গরম; সমুদ্র সৈকত এড়ান দুপুরে |
| জুন | ২৮–৩৮ | মাঝে মাঝে | রথযাত্রার মাস; আর্দ্রতা বাড়তে শুরু |
সেরা সময়: এপ্রিলের শুরু বা জুনের শেষ — গরম কম এবং বৃষ্টি তখনো আসেনি।
🎒 কী নিয়ে যাবেন
গ্রীষ্মে ওড়িশা সফরে নিচের জিনিসগুলো অবশ্যই ব্যাগে রাখুন:
- সানস্ক্রিন (SPF 50+): বাইরে বের হওয়ার ৩০ মিনিট আগে লাগান, প্রতি ২ ঘণ্টায় আবার দিন
- হালকা সুতির জামা: ঢিলেঢালা এবং হালকা রঙের পোশাক পরুন
- সানগ্লাস ও টুপি বা স্কার্ফ: মাথা ঢেকে রাখুন
- ওআরএস প্যাকেট ও ইলেকট্রাল: ঘামে লবণ বেরিয়ে যায়; এগুলো পুষিয়ে দেয়
- পানির বোতল (২ লিটার): প্রতিদিন কমপক্ষে ৩-৪ লিটার জল খান
- ছোট হ্যান্ড ফ্যান বা মিস্টার ফ্যান: বাজারে সহজলভ্য, দারুণ কাজের
- ফার্স্ট এইড কিট: প্যারাসিটামল, অ্যান্টাসিড, ব্যান্ড-এইড
🚆 কীভাবে পৌঁছাবেন
কলকাতা থেকে ওড়িশা:
- ট্রেনে: হাওড়া থেকে ভুবনেশ্বর সরাসরি ট্রেন আছে। জন শতাব্দী এক্সপ্রেস, ফলকনামা এক্সপ্রেস, বা পুরুষোত্তম এক্সপ্রেস — সময় লাগে ৫-৭ ঘণ্টা। ভোরের ট্রেনে গেলে গরম কম লাগে।
- বাসে: কলকাতা থেকে ভুবনেশ্বর বা পুরী সরাসরি ভলভো বাস পাওয়া যায়।
- বিমানে: কলকাতা থেকে ভুবনেশ্বর বিজু পট্টনায়ক বিমানবন্দরে সরাসরি ফ্লাইট আছে — সময় মাত্র ১ ঘণ্টা।
ওড়িশার ভেতরে যাতায়াত:
- পুরী থেকে কোণার্ক: শেয়ার অটো বা ওলা/উবার
- ভুবনেশ্বর টু চিল্কা: বাস বা ভাড়ার গাড়ি
- সিমলিপালের জন্য: ভুবনেশ্বর থেকে গাড়ি ভাড়া নিন; পাবলিক পরিবহনে সময় বেশি লাগে
🏨 কোথায় থাকবেন
পুরী:
- বাজেট: হোটেল গ্র্যান্ড, হোটেল সী সাইড — ৮০০-১৫০০ টাকা/রাত
- মিড-রেঞ্জ: মাহানির রিট্রিট, ট্রাইডেন্ট পুরী — ৩০০০-৬০০০ টাকা/রাত
- লাক্সারি: মারিয়ট পুরী — ৮০০০+ টাকা/রাত (গ্রীষ্মে এখানেও ডিসকাউন্ট মেলে)
ভুবনেশ্বর:
- মিড-রেঞ্জ: হোটেল স্বস্তি, লেমন ট্রি — ২০০০-৪০০০ টাকা/রাত
প্রো টিপ: হোটেল বুক করার সময় দেখুন পুলের সুবিধা আছে কিনা। গ্রীষ্মে পুলওয়ালা হোটেল — এটি বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন!
🍽️ কী খাবেন — ওড়িশার গ্রীষ্মকালীন সেরা খাবার
ওড়িশার রান্না গরমের জন্য অনুকূল — বেশিরভাগ রান্নাই হালকা এবং পেটের পক্ষে ভালো।
অবশ্যই চেখে দেখুন:
- পাখাল ভাত: ঠান্ডা জলে ভেজানো ভাত, সাথে আলুভর্তা আর পাপড়। গ্রীষ্মের প্রিয় খাবার।
- দলমা: ডাল ও সবজির মিশ্রণ, পুষ্টিকর ও হালকা
- চিংড়ি মালাই: তাজা সমুদ্রের চিংড়ি, কলকাতার চেয়ে অনেক তাজা
- ছানার পায়েশ: মিষ্টির জন্য এটি অবশ্যই
- তোরানি: কাঁচা আম ও গুড়ের শরবত — গরমে জীবনদায়ী
- পান্না: কাঁচা আম সেদ্ধ করা শরবত — পুরীর সৈকতে বিক্রি হয়
সতর্কতা: বাইরের কাটা ফল বা বরফের শরবত এড়িয়ে চলুন। প্যাকেটজাত পানীয় বা নিজের বোতলের জল পান করুন।
গ্রীষ্মে ওড়িশা ভ্রমণের ৭ দিনের আদর্শ পরিকল্পনা
দিন ১: ভুবনেশ্বর আগমন
- বিকেলে পৌঁছান, হোটেলে চেক-ইন
- সন্ধ্যায় লিঙ্গরাজ মন্দির এলাকায় হাঁটুন
- রাতের খাবার: ওড়িশা থালি
দিন ২: ভুবনেশ্বরের মন্দির সার্কিট
- ভোর ৬টায়: লিঙ্গরাজ মন্দির, মুক্তেশ্বর, রাজারানী মন্দির
- দুপুর: ওড়িশা জাদুঘরে বিশ্রাম
- বিকেল ৫টায়: উদয়গিরি-খণ্ডগিরি গুহা
দিন ৩: কোণার্ক ও পুরী
- ভোর ৭টায়: কোণার্ক সূর্য মন্দির
- দুপুরে: পুরী পৌঁছান, হোটেলে চেক-ইন
- সন্ধ্যায়: জগন্নাথ মন্দির দর্শন
দিন ৪: পুরী অন্বেষণ
- ভোর ৫টায়: সমুদ্র সৈকতে সূর্যোদয়
- সকাল ১০টায়: পট্টচিত্র শিল্পীদের গ্রাম রঘুরাজপুর
- বিকেল: হোটেলে বিশ্রাম
- সন্ধ্যায়: সৈকতে ঘুরুন, মাছের বাজার দেখুন
দিন ৫: চিল্কা হ্রদ
- সকাল ৭টায়: চিল্কা রওনা
- নৌকায় ডলফিন দেখা
- বিকেলে: পুরীতে ফিরুন
দিন ৬: সিমলিপালের পথে (ঐচ্ছিক)
- ভোরে রওনা, বারিপদায় রাত্রিযাপন
- সিমলিপালে সকালের সাফারি বুক করুন
দিন ৭: প্রত্যাবর্তন
- ভুবনেশ্বর ফিরে যান
- শপিং: পট্টচিত্র, ইকত শাড়ি, পাথরের হস্তশিল্প
আরও পড়ুন – সিমলিপাল জাতীয় উদ্যান, বিশদ জানুন, বেড়িয়ে আসুন
গ্রীষ্মে ওড়িশা ভ্রমণে সাধারণ ভুলগুলো এবং কীভাবে এড়াবেন
ভুল ১: দুপুরে বাইরে বের হওয়া
সমাধান: সকাল ৬টা থেকে ১০টা এবং বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা — এই দুই সময়ে বাইরে থাকুন। মাঝের সময়টায় বিশ্রাম নিন।
ভুল ২: পর্যাপ্ত জল না খাওয়া
সমাধান: প্রতি ঘণ্টায় একবার পানির বোতল থেকে চুমুক দিন, তেষ্টা পাক বা না পাক।
ভুল ৩: শুধু পুরীতেই আটকে থাকা
সমাধান: পুরী চমৎকার, কিন্তু কোণার্ক, চিল্কা এবং রঘুরাজপুর মিস করবেন না।
ভুল ৪: অ্যাডভান্স বুকিং না করা
সমাধান: সিমলিপালের পার্মিট, জনপ্রিয় হোটেল এবং ট্রেনের টিকিট আগেই বুক করুন।
ভুল ৫: স্থানীয় শিষ্টাচার না মানা
সমাধান: মন্দিরে যাওয়ার সময় শরীর ঢাকা পোশাক পরুন, ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন।
ওড়িশা ভ্রমণের বাজেট পরিকল্পনা (৭ দিনের জন্য, দুজনের)
| খাত | বাজেট (₹) | মিড-রেঞ্জ (₹) |
|---|---|---|
| যাতায়াত (কলকাতা থেকে) | ৩,০০০ | ৬,০০০ |
| হোটেল (৭ রাত) | ৭,০০০ | ১৮,০০০ |
| খাওয়াদাওয়া | ৪,০০০ | ৮,০০০ |
| স্থানীয় যাতায়াত | ৩,০০০ | ৫,০০০ |
| প্রবেশ মূল্য ও নৌকা | ২,০০০ | ৪,০০০ |
| শপিং | ২,০০০ | ৫,০০০ |
| মোট | ~২১,০০০ | ~৪৬,০০০ |
গ্রীষ্মের অফ-সিজনে হোটেলে ৩০-৫০% ছাড় পাওয়া যায়, তাই বাজেট পিক-সিজনের তুলনায় অনেক কম।
শেষের কিছু কথা: গ্রীষ্মের ওড়িশা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে
ওড়িশা শুধু একটি গন্তব্য নয় — এটি একটি অনুভূতি। জগন্নাথদেবের মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি শুনলে মনে হবে সময় স্থির হয়ে গেছে। কোণার্কের পাথরে হাত রাখলে মনে হবে হাজার বছর আগের শিল্পীর স্পর্শ পাচ্ছেন। চিল্কার জলে ডলফিনের লাফ দেখলে মন আনন্দে ভরে উঠবে।
হ্যাঁ, গরম আছে। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনায় গ্রীষ্মের ওড়িশা হতে পারে আপনার জীবনের সেরা ভ্রমণের একটি। ভিড় নেই, দাম কম, এবং এক অনন্য অভিজ্ঞতা — যা শুধু গ্রীষ্মেই সম্ভব।
তাহলে আর অপেক্ষা কেন? ব্যাগ গুছিয়ে নিন, সানস্ক্রিন লাগান, পানির বোতল ভরুন — এবং বেরিয়ে পড়ুন ওড়িশার পথে। জগন্নাথদেব আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন।
জয় জগন্নাথ! 🙏
এই পোস্টটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধু এবং পরিবারের সাথে শেয়ার করুন যারা ওড়িশা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন। নিচে কমেন্টে জানান আপনার ওড়িশা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বা কোনো প্রশ্ন থাকলে আমরা উত্তর দিতে প্রস্তুত।

প্রতীক দত্তগুপ্ত, থাকেন কলকাতায়, কাজ বাদে বেড়ানোই যার প্রথম ভালবাসা। এই কয়েক বছর হল বেড়ানোর সাথে কলমও ধরেছেন । তিনি শুধুমাত্র যে জায়গাগুলি পরিদর্শন করেছেন সেগুলি সম্পর্কেই ব্লগ করেন না, তবে তিনি তার অনুগামীদের জন্য টিপস, কৌশল এবং নির্দেশিকাগুলি সম্পর্কেও পোস্ট করেন৷