ওড়িশার সেরা মন্দির: ১২টি যা ধর্ম ও ঐতিহ্যের অপরূপ মিশ্রণ

ওড়িশা কেবলমাত্র তার উপকূল ও বন্যপ্রাণী নয়, প্রাচীন মন্দির, ঐতিহাসিক নির্মাণকলা ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের জন্যও বিখ্যাত। ভুবনেশ্বরকে ‘টেম্পল সিটি অফ ইন্ডিয়া’ বলা হয়। ওড়িশার সেরা মন্দির কোনগুলি বা কোথায় তা আমরা আপনাদের জানাবো এখানে। ওড়িশার এমন ১২টি মন্দির সম্পর্কে জনাব যা শুধু ভক্তদের জন্য নয়, ইতিহাস ও স্থাপত্য প্রেমীদের জন্যও এক অনন্য আকর্ষণ।

Table of Contents

ওড়িশার সেরা মন্দির: জনপ্রিয় 12 টি

ওড়িশা রাজ্যে সেরা মন্দির চয়ন করা বেশ দুরহ কাজ। তবে কিছুটা জনপ্রিয়তা আর কিছুটা ঐতিহাসিক তথ্য ইত্যাদি মিলিয়ে মিশিয়ে 12 টির একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে তাতে যেমন পুরীর জগন্নাথ মন্দির, কোনার্ক মন্দির, তারাতারিণী মন্দির, সম্বলেশ্বরী মন্দির বা মুক্তেশ্বর মন্দির রয়েছে কিন্তু বহু উল্লেখযোগ্য মন্দিরের নাম বাদ পড়ে গেল।

১. জগন্নাথ মন্দির, পুরী

পুরীর কাছাকাছি ঘোরার জায়গা: পুরী গেলে এই 9টি জায়গা অবশ্যই ঘুরে দেখুন

ভারতের চারধামের অন্যতম এই মন্দিরটি ভগবান বিষ্ণুর অবতার জগন্নাথকে উৎসর্গীকৃত। প্রতি বছর লাখ লাখ ভক্ত এই মন্দিরে আসেন রথযাত্রা উপলক্ষে, যা দেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব হিসেবে বিবেচিত।

🔱 মন্দিরের ইতিহাস ও স্থাপত্য

এই মন্দিরটি ১১শ শতকে রাজা অনন্তবর্মণ চোড়গঙ্গা দ্বারা নির্মিত হয়েছিল এবং এটি কলিঙ্গ স্থাপত্যশৈলীর এক অপূর্ব নিদর্শন। ৩৭,০০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে নির্মিত এই মন্দিরে আছে ১২০টিরও বেশি ছোট বড় উপমন্দির। মন্দিরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীর হলো – মেঘনাদ পাচেরি এবং কূর্মভেদা। এখানে বিরাজমান দেবতাদের কাঠের তৈরি মূর্তি প্রতি ১২ বা ১৯ বছর অন্তর বদলানো হয় – যা নিঃসন্দেহে এক অভিনব ধর্মীয় ঐতিহ্য।

  • অবস্থান: পুরী
  • ভগবান: ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা
  • খোলার সময়: সকাল ৫:০০ টা – রাত ১১:০০ টা
  • বিশেষত্ব: বার্ষিক রথযাত্রা, চার ধাম তীর্থের একটি
  • সেরা সময়: জুন-জুলাই (রথযাত্রা), অক্টোবর–ফেব্রুয়ারি
  • কাছাকাছি দর্শনীয় স্থান: পুরী সমুদ্র সৈকত, কনার্ক সূর্য মন্দির, চিলিকা হ্রদ

২. বৈতাল দেউল মন্দির, ভুবনেশ্বর

ভুবনেশ্বরের অন্যতম রহস্যময় মন্দির হল বৈতাল দেউল, যা দেবী চামুন্ডা বা কালীকে উৎসর্গীকৃত এবং তান্ত্রিক উপাসনার এক প্রাচীন নিদর্শন। খ্রিস্টীয় ৮ম শতাব্দীতে নির্মিত এই মন্দিরটি খাখারা রীতির অংশ – কলিঙ্গ স্থাপত্যের একটি উপবিভাগ।

🔱 স্থাপত্য ও বিশেষত্ব

দেউল (মিনার) আকৃতির ছাদ, খোদাই করা সূর্যদেবের মূর্তি ও চারমুখী লিঙ্গ, এই মন্দিরের প্রধান আকর্ষণ। মন্দিরের বাইরের অংশ ভগবান শিব, পার্বতী, কামদৃশ্য ও বন্যপ্রাণীর খোদাই দ্বারা সজ্জিত। এখানে সূর্য মন্দিরের পূর্বসূরি হিসেবে একটি আকর্ষণীয় নকশা খুঁজে পাওয়া যায়।

  • ভগবান: দেবী চামুন্ডা (তন্ত্র সাধনার কেন্দ্র)
  • খোলার সময়: সকাল ৬:০০ – বিকেল ৮:০০
  • স্থাপত্য: খাখারা শৈলী
  • সেরা সময়: শীতকাল
  • বিশেষ আকর্ষণ: সূর্যদেবের খোদাই, চতুর্মুখী লিঙ্গ
  • কাছাকাছি: লিঙ্গরাজ মন্দির, রামেশ্বর মন্দির

পড়ে দেখুন: ওড়িশার সেরা সমুদ্র সৈকত কোনগুলি ? সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সহ

৩. কোনার্ক মন্দির

কোনার্ক  মন্দির

‘কালো প্যাগোডা’ নামে খ্যাত এই মন্দিরটি সূর্যদেবকে উৎসর্গীকৃত এবং ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর একটি। মন্দিরটির স্থাপত্য, ধর্মীয় মাহাত্ম্য এবং পৌরাণিক কাহিনী একে করে তুলেছে ওড়িশার অন্যতম দর্শনীয় তীর্থস্থান।

🔱 ইতিহাস ও স্থাপত্য

১৩শ শতকে রাজা নরসিংহদেব কর্তৃক নির্মিত এই মন্দিরটি একটি বিশাল রথের আকারে গঠিত – যার ১২টি চাকা ও ৭টি ঘোড়া সূর্যদেবের চলার পথকে নির্দেশ করে। প্রতিটি চাকা একটি সূর্যঘড়ির কাজ করে এবং সময় পরিমাপে ব্যবহৃত হত। এটি একসময় চন্দ্রভাগা নদীর তীরে নির্মিত হয়েছিল। এক পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, শ্রীকৃষ্ণের পুত্র সাম্ব সূর্যদেবের আশীর্বাদে কুষ্ঠরোগ থেকে মুক্ত হন এবং এই মন্দির নির্মাণ করেন তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশে।

  • অবস্থান: কোনার্ক, পুরী জেলা
  • ভগবান: সূর্যদেব
  • খোলার সময়: সকাল ৬:০০ টা – রাত ৮:০০ টা
  • বিশেষত্ব: ইউনেস্কো হেরিটেজ সাইট, রথ-আকৃতির স্থাপত্য
  • সেরা সময়: অক্টোবর থেকে মার্চ
  • কাছাকাছি দর্শনীয় স্থান: চন্দ্রভাগা সৈকত, জগন্নাথ মন্দির

৪. লিঙ্গরাজ মন্দির, ভুবনেশ্বর

ভুবনেশ্বরের সবচেয়ে বড় এবং বিখ্যাত মন্দির লিঙ্গরাজ মন্দির ভগবান শিব ও বিষ্ণুর যুগল রূপ ‘হরি-হর’-কে উৎসর্গীকৃত। একাদশ শতকে নির্মিত এই মন্দিরটি কলিঙ্গ স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শনগুলির মধ্যে অন্যতম।

🔱 ইতিহাস ও স্থাপত্য

মন্দিরে গর্ভগৃহ, জগমোহন, ভোগমণ্ডপ ও নাট্য মন্দির – এই চারটি প্রধান অংশ রয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণে প্রায় ৫০টি ছোট মন্দিরও আছে। প্রবেশপথে সিংহদ্বার, চক্র ও ত্রিশূল খোদাই আছে। শিবরাত্রি ও অশোকাষ্টমীর সময় বিশাল রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

  • অবস্থান: ভুবনেশ্বর
  • ভগবান: হরি-হর (শিব ও বিষ্ণু)
  • খোলার সময়: সকাল ৬:৩০ – সন্ধ্যা ৭:৩০
  • বিশেষত্ব: বৃহত্তম মন্দির, ব্রহ্ম পুরাণে উল্লেখিত
  • উৎসব: শিবরাত্রি, অশোকাষ্টমী
  • সেরা সময়: অক্টোবর–ফেব্রুয়ারি
  • কাছাকাছি: বৈতাল দেউল মন্দির, অনন্ত বাসুদেব মন্দির

পড়ে দেখুন: ওড়িশার সারান্ডা ফরেস্ট ভ্রমণ – চলুন সাতশো পাহাড়ের দেশে

৫. ব্রহ্মেশ্বর মন্দির, ভুবনেশ্বর

ভগবান শিবের উপাসকদের জন্য ব্রহ্মেশ্বর মন্দির একটি বিশেষ তীর্থস্থল। নবম শতাব্দীতে নির্মিত এই প্রাচীন মন্দিরটি ভুবনেশ্বর শহরে অবস্থিত। কলিঙ্গ স্থাপত্যশৈলীর অসাধারণ নিদর্শন এটি, যার কারুকার্যখচিত বারান্দা, গম্বুজ ও চারপাশের ক্ষুদ্র মন্দিরগুলি তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের অভিভূত করে।

🔱 মন্দিরের স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য

এই মন্দিরটি লিঙ্গায়ত স্থাপত্যধারায় নির্মিত, এবং এটি মুক্তেশ্বর মন্দিরের শৈলীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও আরও পরিশীলিত কাঠামোয় গঠিত। চারদিকের চারটি ছোট মন্দির ব্রহ্মেশ্বর মন্দিরের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তোলে। কাঠের নির্মাণশৈলীর প্রভাব এবং সূক্ষ্ম ভাস্কর্য এই মন্দিরকে অনন্য করে তুলেছে।

  • স্থাপত্য শৈলী: লিঙ্গায় স্থাপত্য, সূক্ষ্ম ভাস্কর্য
  • খোলার সময়: সকাল ৬:৩০ – বিকেল ৫:০০
  • সেরা সময়: অক্টোবর–মার্চ
  • কাছাকাছি দর্শনীয় স্থান: লিঙ্গরাজ মন্দির, ধাউলি পাহাড়

৬. তারাতারিণী মন্দির, গঞ্জাম

রুশিকুল্যা নদীর তীরে কুমারী পাহাড়ের উপর অবস্থিত তারাতারিণী মন্দির ওড়িশার অন্যতম শক্তিপীঠ। এটি দেবী সতীর বক্ষ পতনের স্থান এবং তাই ‘বক্ষ মন্দির’ হিসেবেও পরিচিত।

🔱 ধর্মীয় তাৎপর্য

দেবী তারা ও তারিণীর মূর্তি প্রাচীন শিলা দিয়ে নির্মিত এবং অলঙ্কারে সজ্জিত। চৈত্র মাসে মঙ্গলবারে বিশেষ উৎসব হয় — যা ‘চৈত্র যাত্রা’ নামে খ্যাত। শিশুমুন্ডনের জন্য এই মন্দিরে প্রচলিত বিশেষ আচার রয়েছে।

  • অবস্থান: কুমারী পাহাড়, গঞ্জাম
  • দেবী: তারা ও তারিণী (শক্তিপীঠ)
  • খোলার সময়: সকাল ৫:০০ – দুপুর ১২:৩০ ও দুপুর ২:১৫ – রাত ৯:৪৫
  • বিশেষত্ব: চৈত্র যাত্রা উৎসব, মুন্ডন প্রথা
  • সেরা সময়: অক্টোবর–ফেব্রুয়ারি
  • কাছাকাছি: গোপালপুর সমুদ্র সৈকত, তাম্পারা হ্রদ

পড়ে দেখুন: ওডিশার বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যগুলি ঘুরে আসুন সপরিবারে

৭. মুক্তেশ্বর মন্দির, ভুবনেশ্বর

ভগবান শিবকে উৎসর্গীকৃত মুক্তেশ্বর মন্দির ভুবনেশ্বরের এক ঐতিহাসিক রত্ন। দশম শতাব্দীতে সোমবংশী রাজবংশের রাজা যযাতি প্রথমের আমলে নির্মিত এই মন্দিরটি কলিঙ্গ স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।

🔱 স্থাপত্য ও গুরুত্ব

মন্দিরটি ধর্মীয় দিক থেকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, স্থাপত্যিক দিক থেকেও তেমনই আকর্ষণীয়। এই মন্দিরের অনন্য কারুকার্য, খিলান এবং খোদাই মুক্তেশ্বর মন্দিরকে ‘ভুবনেশ্বরের রত্ন’ নামে পরিচিত করেছে। প্রতিবছর শীতের শেষে এখানে অনুষ্ঠিত হয় জনপ্রিয় মুক্তেশ্বর নৃত্য উৎসব

  • বিশেষত্ব: কলিঙ্গ স্থাপত্যের নিদর্শন
  • খোলার সময়: সকাল ৭:০০ – সন্ধ্যা ৭:০০
  • সেরা সময়: অক্টোবর–ফেব্রুয়ারি
  • বিশেষ উৎসব: মুক্তেশ্বর নৃত্য উৎসব
  • কাছাকাছি: উদয়গিরি ও খন্ডগিরি গুহা, লিঙ্গরাজ মন্দির

৮. পঞ্চলিঙ্গেশ্বর মন্দির, বালাসোর

নীলগিরি পাহাড়ের শীর্ষে অবস্থিত পঞ্চলিঙ্গেশ্বর মন্দির হল ভগবান শিবের আরাধনার একটি অলৌকিক স্থান। এখানে পাঁচটি শিবলিঙ্গ একটি প্রাকৃতিক জলস্রোতের মধ্যে অবস্থিত, যা দর্শনার্থীদের বিশেষ ভক্তিভাবের সাথে পূজা করতে হয়।

🔱 বিশেষত্ব

এই শিবলিঙ্গগুলির উপর দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন জলধারা প্রবাহিত হয়। জনশ্রুতি অনুযায়ী, এই লিঙ্গগুলি ভগবান রাম বা রাক্ষস রাজা বাণাসুর স্থাপন করেছিলেন। পাহাড়চূড়ার দৃশ্য ও পরিবেশ এই মন্দিরকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

  • অবস্থান: নীলাগিরি পাহাড়, বালাসোর
  • খোলার সময়: সারাদিন খোলা থাকে।
  • বিশেষত্ব: পাঁচটি প্রাকৃতিক শিবলিঙ্গ, জলপ্রপাতের ধারা
  • সেরা সময়: অক্টোবর–মার্চ
  • প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য স্বর্গ
  • কাছাকাছি: দেবীকুণ্ড জলপ্রপাত, কুলডিহা বনাঞ্চল

৯. পরশুরামেশ্বর মন্দির, ভুবনেশ্বর

৬৫০ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত পরশুরামেশ্বর মন্দির শিব ও শক্তির একত্রে পূজার ঐতিহ্য বহন করে। এটি নাগর স্থাপত্যশৈলীর এক প্রাচীন নিদর্শন এবং শৈলোদভব রাজবংশের শাসক দ্বিতীয় মাধবরাজের আমলে নির্মিত।

🔱 স্থাপত্য ও ধর্মীয় গুরুত্ব

মন্দিরে দেখা যায় ‘বিমান’ ও ‘জগমোহন’ – প্রাচীন কলিঙ্গ মন্দির নির্মাণশৈলীর দুটি মুখ্য উপাদান। শিব ও শক্তির মিলিত আরাধনা, খোদাই করা মূর্তি, এবং প্রাচীন সৌন্দর্য একে শহরের অন্যতম দর্শনীয় তীর্থে পরিণত করেছে।

  • অবস্থান: ভুবনেশ্বর
  • ভগবান: শিব ও শক্তি
  • খোলার সময়: সকাল ৫:০০ – সন্ধ্যা ৬:০০
  • স্থাপত্য: প্রাচীন নাগর শৈলী
  • সেরা সময়: অক্টোবর–মার্চ
  • বিশেষ উৎসব: পরশুরাষ্টমী
  • কাছাকাছি: লিঙ্গরাজ মন্দির, মুক্তেশ্বর মন্দির

১০. সম্বলেশ্বরী মন্দির, সম্বলপুর

সম্বলেশ্বরী মন্দির
চিত্র সৌজন্য

ওড়িশার পশ্চিমাংশে মহানদীর তীরে অবস্থিত সম্বলেশ্বরী মন্দির হল দেবী আদ্যাশক্তি, মহালক্ষ্মী ও মহাসরস্বতীর একত্র রূপে পূজিত মা সম্বলেশ্বরীর আবাসস্থল। ষোড়শ শতকে নির্মিত এই মন্দিরটি নবরাত্রি ও নুয়াখাই উৎসবের সময় ভক্তদের মিলনস্থলে পরিণত হয়।

🌸 ইতিহাস ও স্থাপত্য

চৌহান রাজবংশের রাজা বলরাম দেব দেবীর মূর্তি আবিষ্কার করে এই মন্দির নির্মাণ করেন। মন্দিরটি গ্রানাইট পাথরে নির্মিত, যা দীর্ঘস্থায়ী ও সুন্দর খোদাইয়ের জন্য বিখ্যাত। মন্দির দুটি ভাগে বিভক্ত—বাদগুড়ি (প্রধান গর্ভগৃহ) ও সানাগুড়ি (মণ্ডপ), যেখানে গণেশ ও অন্যান্য দেবদেবীর মূর্তি স্থাপিত। দেবীর মূর্তি অনন্য অলঙ্করণে অলোকসামান্য।

  • অবস্থান: সম্বলপুর
  • দেবী: মা সম্বলেশ্বরী (মহালক্ষ্মী রূপে)
  • খোলার সময়: সকাল ৫:০০ – সন্ধ্যা ৭:০০
  • বিশেষ উৎসব: নুয়াখাই, দশেরা
  • সেরা সময়: অক্টোবর–মার্চ
  • স্থাপত্য: গ্রানাইটের খোদাই, বাদগুড়ি ও সানাগুড়ি কক্ষ
  • কাছাকাছি: হিরাকুদ বাঁধ, উষাকোঠি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য

১১. রাজারানী মন্দির, ভুবনেশ্বর

ভুবনেশ্বরের আরেক বিস্ময়, রাজারানী মন্দির, একাদশ শতাব্দীর স্থাপত্য কৃতিত্ব। রঙিন বেলেপাথরে নির্মিত এই মন্দির প্রেম, সৌন্দর্য ও শিল্পের মূর্ত প্রতীক।

🔱 স্থাপত্য ও কাহিনী

রাজারানী পাথর থেকে নামকরণ পাওয়া এই মন্দিরটির ভিতরে কোনও দেবমূর্তি নেই, তবে খোদাই ও অলংকরণ থেকে অনুমান করা হয় এটি শৈব মতবাদের অন্তর্গত। পঞ্চরথ শৈলীর গঠন, বিশাল গম্বুজ, এবং সুসজ্জিত মিনার একে সত্যিই অপূর্ব করে তুলেছে।

  • অবস্থান: ভুবনেশ্বর
  • খোলার সময়: সকাল ৮:০০ – বিকেল ৫:০০
  • বিশেষত্ব: প্রেমময় খোদাই, শৈব স্থাপত্য
  • সেরা সময়: অক্টোবর–মার্চ
  • স্থাপত্য: পঞ্চরথ শৈলী
  • কাছাকাছি: লিঙ্গরাজ মন্দির, মুক্তেশ্বর মন্দির

১২. দেবী অম্বিকা মন্দির, দেবকুণ্ড (বালাসোর)

দেবী অম্বিকা মন্দির
চিত্র soujonyo

দেবী দুর্গার জীবন্ত রূপ মা অম্বিকার পূজায় নিবেদিত এই মন্দিরটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং আধ্যাত্মিকতা—উভয়ের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত এই মন্দির থেকে একটি জলপ্রপাতও প্রবাহিত হয়, যা একে প্রকৃতি প্রেমীদের কাছেও আকর্ষণীয় করে তোলে।

🌸 ইতিহাস ও আকর্ষণ

গুজরাটি ঠিকাদার ওয়ালজি গোবিন্দ ১৯২০ সালে মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করেন, মা অম্বিকার আশীর্বাদে তাঁর অসুস্থ সন্তান সুস্থ হয়ে ওঠার পর। মার্বেল পাথরে খোদাই করা দেবীর চারহাত বিশিষ্ট মূর্তিটি সিংহের উপর বসে আছেন, হাতে খড়্গ, ত্রিশূল ও অন্যান্য অস্ত্র। মন্দিরে দুর্গা ছাড়াও গণেশ, শিব, হনুমান ও মঙ্গলার মূর্তি রয়েছে।

দুর্গাপূজা, বাসন্তী পূজা, মকর সংক্রান্তি সহ বহু উৎসব এখানে ভক্তিভরে পালিত হয়।

  • দেবী: অম্বিকা
  • বিশেষত্ব: মার্বেল মূর্তি, সিংহ বাহন, পাহাড় ও জলপ্রপাতের সৌন্দর্য
  • সেরা সময়: অক্টোবর–ফেব্রুয়ারি
  • বিশেষ উৎসব: দুর্গাপূজা, বাসন্তী পূজা, রোজো উৎসব
  • কাছাকাছি: জোরান্ডা জলপ্রপাত, জ্বালামুখী মন্দির, মানত্রি

উপসংহার

ওড়িশার মন্দিরগুলি শুধু ভক্তির স্থান নয়, বরং হাজার বছরের প্রাচীন সংস্কৃতি, স্থাপত্য শিল্প ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রমাণ। ভুবনেশ্বর, পুরী, সম্বলপুর, বালাসোর থেকে গঞ্জাম – প্রতিটি জেলায় আছে ভিন্ন এক ধর্মীয় সৌন্দর্য। আপনার পরবর্তী তীর্থ ও ঐতিহাসিক ভ্রমণ পরিকল্পনায় ওড়িশার এই মন্দিরগুলি অবশ্যই যুক্ত করুন।

Leave a Comment