উত্তর প্রদেশের ঐতিহাসিক দুর্গ: সেরা 5টি কোথায়, কিভাবে যাবেন জেনে নিন

উত্তর প্রদেশের ঐতিহাসিক দুর্গ: সেরা 5টি কোথায়, কখন, কিভাবে যাবেন জেনে নিন

উত্তর প্রদেশের ঐতিহাসিক দুর্গ সংখ্যায় 40 টির বেশি। দুর্গগুলি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রাচীন যুগের স্থাপত্যশৈলী, কৌশলগত গুরুত্ব ও বীরত্বের নীরব সাক্ষী। এই দুর্গগুলো প্রাচীন যুগের স্থাপত্যশৈলী, কৌশলগত গুরুত্ব এবং বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধের নীরব সাক্ষী। রাজ্যের বৈচিত্রপুর্ন ভূপ্রকৃতিতে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা এই বিশাল দুর্গগুলো ভ্রমণপিপাসুদের অতীতের এক মনোমুগ্ধকর সফরে যেতে আমন্ত্রণ জানায়।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্থাপত্যশৈলী
উত্তর প্রদেশের দুর্গগুলো ভারতের ইতিহাসের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করা এবং রাজ্যগুলোর সুরক্ষার জন্য এই দুর্গগুলো অপরিহার্য ছিল। প্রতিটি দুর্গের নিজস্ব এক অনন্য ইতিহাস রয়েছে – মুঘল স্থাপত্যের জাঁকজমক, রাজপুতদের প্রতিরক্ষামূলক নির্মাণকৌশল এবং মারাঠা যোদ্ধাদের অবিচল সাহসিকতা ফুটে উঠেছে এদের নির্মাণশৈলীতে।

দুর্গগুলোর কৌশলগত অবস্থান, বিস্তৃত দৃশ্যপট এবং জটিল দুর্গপ্রাচীর প্রতিরক্ষা ও সামরিক দক্ষতার প্রকৃষ্ট নিদর্শন। দৃঢ় প্রাচীর, বিশাল প্রবেশদ্বার এবং সুউচ্চ দুর্গমিনারগুলো অতীতের প্রকৌশল কীর্তির সাক্ষ্য বহন করে। দুর্গের অভ্যন্তরে চমৎকার প্রাসাদ, গোপন চেম্বার এবং সুবিশাল দরবার হল রয়েছে, যেখানে একসময় রাজকীয় কদমের আওয়াজ ও যুদ্ধের গর্জন প্রতিধ্বনিত হত

উত্তর প্রদেশের ঐতিহাসিক দুর্গসমূহ – গৌরবময় অতীতের প্রতীক
এই দুর্গগুলো কেবলমাত্র ঐতিহাসিক নিদর্শন নয়; বরং উত্তর প্রদেশের সাহসী অতীত ও অবিনশ্বর চেতনার প্রতীক। এসব দুর্গ যুগে যুগে সাহস, ত্যাগ ও বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের প্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে। প্রতিটি পর্যটকের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের সাথে সংযোগ স্থাপনের এক সুবর্ণ সুযোগ

উত্তর প্রদেশের দুর্গগুলো তাদের স্থাপত্যশৈলী, প্রতিরক্ষামূলক শক্তি এবং বীরত্বপূর্ণ ইতিহাসের এক শক্তিশালী প্রমাণ। তারা ভ্রমণপ্রেমীদের আমন্ত্রণ জানায় – অতীতের গৌরবময় অধ্যায়ে প্রবেশ করতে, তাদের স্থাপত্যশৈলীর মহিমা উপলব্ধি করতে এবং প্রাচীন ভারতের ঐতিহ্যের গভীরে প্রবেশ করতে।

আরও পড়ুন: উত্তরপ্রদেশের সেরা 12টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যান

1. আগ্রা দুর্গ

আগ্রা দুর্গ
Picture credit: asi.nic.in

পরিচিতি:
আগ্রা দুর্গ, যা সাধারণত আগ্রার লাল কেল্লা নামে পরিচিত, ভারতের অন্যতম ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত। ষোড়শ শতাব্দী থেকে এর ইতিহাসের শুরু হলেও, তাজমহালের জাঁকজমকের ছায়ায় এটি অনেক সময় উপেক্ষিত হয়। তবে এটি নিজেই এক অনন্য স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।

আগ্রা দুর্গের স্থাপত্যশৈলী:

১৫৬৫ খ্রিস্টাব্দে তৃতীয় মুঘল সম্রাট আকবর এই দুর্গ নির্মাণ শুরু করেন। পরবর্তী শাসক জাহাঙ্গীর, শাহজাহান ও ঔরঙ্গজেব এতে বিভিন্ন পরিবর্তন ও সংযোজন করেন। দুর্গটি ভারতীয় ও পারস্য স্থাপত্যের সংমিশ্রণে তৈরি এবং এর লাল বেলেপাথরের নির্মাণশৈলী একে অনন্য রূপ দিয়েছে।

আগ্রা দুর্গ প্রায় ৯৪ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত। দুর্গে বিভিন্ন রাজপ্রাসাদ, অট্টালিকা ও প্রাঙ্গণ রয়েছে, যা মুঘল স্থাপত্যের শৈল্পিক নিদর্শন বহন করে।

আগ্রা দুর্গের প্রধান আকর্ষণসমূহ:

4 Agra fort 2
Picture credit: artisansofleisure.com
  • জাহাঙ্গীর মহল: আকবর দ্বারা নির্মিত ও পরে জাহাঙ্গীর কর্তৃক পুনঃনির্মিত এই প্রাসাদটি মুঘল স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন। এতে বেশ কয়েকটি প্রাঙ্গণ, সজ্জিত বারান্দা ও সুদৃশ্য চত্বর রয়েছে।
  • খাস মহল: এটি সম্পূর্ণ সাদা মার্বেলে নির্মিত এবং সূক্ষ্ম নকশা ও কারুকার্যে ভরপুর। এটি সম্রাটের ব্যক্তিগত বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হত।
  • শীশ মহল (Mirror Palace): অন্দরমহলে অবস্থিত এই প্রাসাদ আলো পড়লে অসংখ্য আয়নার মাধ্যমে চমৎকার প্রতিফলন তৈরি করে
  • দেওয়ান-ই-আম ও দেওয়ান-ই-খাস:
  • দেওয়ান-ই-আম (Hall of Public Audience): এটি ছিল জনসাধারণের জন্য সভাস্থল, যেখানে সম্রাট তাদের অভিযোগ শুনতেন। এর সম্মুখভাগে অসংখ্য খিলান রয়েছে।
  • দেওয়ান-ই-খাস (Hall of Private Audience): এখানে সম্রাট বিশেষ অতিথিদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করতেন।
  • মোতি মসজিদ (Pearl Mosque): শাহজাহান দ্বারা নির্মিত সাদা মার্বেলের এই মসজিদটি দেখতে অত্যন্ত মনোরম এবং এক অনন্য স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন।
  • মুসাম্মান বুর্জ:
  • এটি দুর্গের পাশেই অবস্থিত একটি অষ্টভুজাকার টাওয়ার, যা শাহজাহান তার প্রিয় স্ত্রী মুমতাজ মহলের জন্য নির্মাণ করেছিলেন।
  • এখান থেকে যমুনা নদী ও তাজমহলের অসাধারণ দৃশ্য দেখা যায়।
  • শাহজাহান কারাবাসের শেষ দিনগুলি এখানেই কাটিয়েছিলেন।

কেন আগ্রা দুর্গ ভ্রমণ করবেন?

যারা মুঘল স্থাপত্য দেখতে ভালোবাসেন, ভারতের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চান এবং এই ঐতিহাসিক দুর্গের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য আগ্রা দুর্গ একটি অবশ্যই দর্শনীয় স্থান। তাজমহালের নিকটবর্তী হওয়ায় এটি ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য অপরিহার্য গন্তব্য

আগ্রা দুর্গ ভ্রমণের সেরা সময়:

অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত শীতকাল আগ্রা দুর্গ পরিদর্শনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়, কারণ তখন আবহাওয়া শীতল ও মনোরম থাকে।

আগ্রা দুর্গ খোলার সময় ও প্রবেশমূল্য:

খোলার সময়: প্রতিদিন সকাল ৬:০০ থেকে সন্ধ্যা ৬:০০ পর্যন্ত
বিঃদ্রঃ দুর্গটি সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খোলা থাকে।

প্রবেশমূল্য:

  • ভারতীয়দের জন্য: ৫০ টাকা প্রতি ব্যক্তি (শুক্রবারে ৪০ টাকা)।
  • বিদেশিদের জন্য: ৬৫০ টাকা প্রতি ব্যক্তি (শুক্রবারে ৬০০ টাকা)।
  • ১৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য: বিনামূল্যে প্রবেশ।

আগ্রা দুর্গে আলো ও সাউন্ড শোয়ের সময়সূচি:

হিন্দি শো: সূর্যাস্তের ৩০ মিনিট পর
ইংরেজি শো: হিন্দি শো শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়।

আলো ও সাউন্ড শো-এর টিকিট মূল্য:

  • ভারতীয়দের জন্য: ৭০ টাকা।
  • ছাত্রদের জন্য: ৪০ টাকা।
  • বিদেশি পর্যটকদের জন্য: ২০০ টাকা।
  • ১৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য: বিনামূল্যে প্রবেশ।

আগ্রা দুর্গে কিভাবে পৌঁছাবেন?

  • বিমানপথে:
    নিকটতম বিমানবন্দর ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দিল্লি (DEL), যা আগ্রা থেকে প্রায় ২২০ কিমি দূরে। এখান থেকে ট্যাক্সি বা অন্যান্য যানবাহনের মাধ্যমে আগ্রা পৌঁছানো যায়।
  • 🚆 রেলপথে:
    আগ্রা ফোর্ট রেলওয়ে স্টেশন আগ্রার অন্যতম প্রধান রেলস্টেশন, যেখানে ভারতের বিভিন্ন শহর থেকে ট্রেন সংযোগ রয়েছে।
  • 🛣 সড়কপথে:
    জাতীয় মহাসড়কের মাধ্যমে ভারতের প্রধান শহরগুলোর সঙ্গে আগ্রার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত এবং এটি গাড়ি, ট্যাক্সি বা বাসের মাধ্যমে সহজেই পৌঁছানো যায়।

আরও পড়ুন: ছত্তিশগড়ের জনপ্রিয় 7 টি দর্শনীয় গন্তব্যের সব খবর

2. ফতেহপুর সিক্রি

ফতেহপুর সিক্রি
Picture credit: smart-guide.org

পরিচিতি:
ফতেহপুর সিক্রি ভারতের অন্যতম সুন্দরভাবে সংরক্ষিত মুঘল স্থাপত্যের শহর, যা ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত। এটি ১৫৬৯ সালে সম্রাট আকবর প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রায় ১৪ বছর ধরে মুঘল সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল। আকবর এই শহরটি কৌশলগতভাবে সুফি সন্ত শেখ সলিম চিশতিকে সম্মান জানানোর জন্য নির্মাণ করেছিলেন, কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন যে এই সন্তের আশীর্বাদেই তাঁর পুত্র রাজকুমার সলিম (পরবর্তী সময়ে সম্রাট জাহাঙ্গীর) জন্মগ্রহণ করেছিলেন। প্রথমে এর নাম ছিল ‘ফতেহাবাদ’, যা ‘ফতেহ’ অর্থাৎ বিজয় থেকে এসেছে। পরে এটি ফতেহপুর সিক্রি নামে পরিচিত হয়।

ফতেহপুর সিক্রির স্থাপত্যশৈলীর মহিমা:

ফতেহপুর সিক্রির স্থাপত্যে ভারতীয় ও পারস্যের স্থাপত্যশৈলীর সংমিশ্রণ দেখা যায়, যা মুঘল যুগের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে প্রকাশ করে। এই ঐতিহাসিক স্থানের নকশায় জ্যামিতিক নকশা, সাদা মার্বেল, সূক্ষ্ম খোদাই এবং লাল বেলেপাথর ব্যবহৃত হয়েছে, যা এক অনন্য শৈল্পিক সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছে।

নিচে ফতেহপুর সিক্রির কিছু উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য নিদর্শন দেওয়া হলো :-

4 Fatehpur sikri fort 2
Picture credit: thedecorjournalindia.com
  • বুলন্দ দরওয়াজা:
    বুলন্দ দরওয়াজা বা ‘বিজয় তোরণ’ বিশ্বের অন্যতম উচ্চতম প্রবেশদ্বার, যার উচ্চতা ৫৪ মিটার। ১৬০১ সালে আকবর গুজরাট জয়ের স্মরণে এটি নির্মাণ করেন। এটি লাল এবং হলুদ বেলেপাথর দিয়ে তৈরি, যার উপর কুরআনের আয়াত খোদাই করা রয়েছে।
  • জামা মসজিদ:
    ফতেহপুর সিক্রির জামা মসজিদ ভারতের অন্যতম বৃহৎ মসজিদ। এটি ভারতীয় ও পারস্যের স্থাপত্যশৈলীর সংমিশ্রণে নির্মিত। মসজিদে একটি বিশাল উঠোন রয়েছে, যার মাঝে ওজুখানা রয়েছে। সাদা মার্বেল ও লাল বেলেপাথর দিয়ে নির্মিত এই মসজিদে তিনটি বৃহৎ গম্বুজ রয়েছে।
  • শেখ সলিম চিশতির সমাধি:
    মুঘল সম্রাট আকবরের আস্থাভাজন সুফি সন্ত শেখ সলিম চিশতির সমাধি ফতেহপুর সিক্রির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এটি সম্পূর্ণ সাদা মার্বেলে নির্মিত এবং এর উপর সুন্দর জালির কাজ ও জ্যামিতিক নকশা রয়েছে। অসংখ্য তীর্থযাত্রী এখানে আসেন এবং আশীর্বাদ প্রার্থনা করে সমাধির মার্বেল জালির মধ্যে সুতো বাঁধেন।
  • পাঁচ মহল:
    পাঁচ মহল দেখতে অনেকটা বৌদ্ধ মন্দিরের মতো, যার পাঁচটি তলা রয়েছে। প্রতিটি তলার আকার নিচের তলার চেয়ে ছোট, যা খোলা ও বাতাস চলাচলের উপযোগী কাঠামো তৈরি করেছে। এটি রাজপরিবারের বিশ্রামের জন্য ব্যবহৃত হত।

ফতেহপুর সিক্রির দুর্গ ইতিহাস, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য নিদর্শন। ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য এটি একটি আবশ্যিক গন্তব্য, যেখানে মুঘল সাম্রাজ্যের অতীত ঐতিহ্য ও স্থাপত্যের নিদর্শন গভীরভাবে অনুভব করা যায়।

ফতেহপুর সিক্রি ভ্রমণের সেরা সময়:

অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত শীতকাল ফতেহপুর সিক্রি দুর্গ ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে ভালো সময়, কারণ এই সময়ে আবহাওয়া মনোরম থাকে এবং দর্শনার্থীদের জন্য দর্শন আরও আরামদায়ক হয়।

ফতেহপুর সিক্রি খোলার সময় ও প্রবেশমূল্য:

খোলার সময়: প্রতিদিন সকাল ৬:০০ থেকে সন্ধ্যা ৬:০০ পর্যন্ত
প্রবেশমূল্য:

  • ভারতীয়দের জন্য: ৫০ টাকা প্রতি ব্যক্তি।
  • বিদেশিদের জন্য: ৬১০ টাকা প্রতি ব্যক্তি।
  • ১৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য: বিনামূল্যে প্রবেশ।

ফতেহপুর সিক্রি কিভাবে পৌঁছাবেন?

  • বিমানপথে: নিকটতম বিমানবন্দর খেরিয়া বিমানবন্দর, আগ্রা, যা ফতেহপুর সিক্রি থেকে প্রায় ৪০ কিমি দূরে। এখান থেকে ট্যাক্সি বা বাস নিয়ে সহজেই দুর্গে পৌঁছানো যায়।
  • 🚆 রেলপথে: নিকটতম প্রধান রেলস্টেশন আগ্রা ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন, যা ভারতের বিভিন্ন শহরের সঙ্গে সংযুক্ত।
  • 🛣 সড়কপথে: ফতেহপুর সিক্রি সড়কপথে ভালোভাবে সংযুক্ত, এবং এটি গাড়ি, ট্যাক্সি বা বাসের মাধ্যমে সহজেই পৌঁছানো যায়।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রদেশের 12 টি বিখ্যাত মন্দির ও দর্শনীয় স্থান

3. চুনার দুর্গ

চুনার দুর্গ
Picture credit: tourmyindia.com

পরিচিতি:
উত্তর প্রদেশের মির্জাপুর জেলার চুনার শহরে অবস্থিত চুনার দুর্গ একটি ঐতিহাসিক দুর্গ, যা বারাণসীর খুব কাছেই গঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। দুর্গটি তার কৌশলগত অবস্থানের জন্য ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। একাদশ শতকে উজ্জয়নের রাজা বিক্রমাদিত্য এই দুর্গটি নির্মাণ করেন বলে মনে করা হয়। তবে, এর দীর্ঘ ইতিহাসে এটি বহুবার বিভিন্ন শাসকদের অধীনে এসেছে, যার মধ্যে মুঘল, ব্রিটিশ এবং অন্যান্য রাজবংশের শাসন অন্তর্ভুক্ত।

চুনার দুর্গের স্থাপত্যশৈলী:

চুনার দুর্গের স্থাপত্যে হিন্দু, মুঘল এবং ব্রিটিশ নকশার সংমিশ্রণ দেখা যায়, যা বিভিন্ন যুগের শাসকদের প্রভাবকে প্রতিফলিত করে। দুর্গটি সম্পূর্ণ পাথরের তৈরি হওয়ায় এটি অত্যন্ত দৃঢ় এবং মজবুত।

-🔹 দুর্গের ভেতরে অবস্থিত গণেশ মন্দির অত্যন্ত জনপ্রিয়, যেখানে বহু তীর্থযাত্রী আশীর্বাদ নিতে আসেন।
-🔹 দুর্গের অন্যতম রহস্যময় আকর্ষণ ‘মৃত্যুকূপ’ বা ‘ওয়েল অফ ডেথ’, যেখানে একসময় বন্দীদের ফেলে দেওয়া হত। এর সাথে জড়িত রহস্যময় ইতিহাস দুর্গের পরিবেশকে আরও রহস্যময় করে তোলে।
-🔹 দুর্গের অভ্যন্তরে বীর বাহাদুর সিং-এর স্মারক রয়েছে, যিনি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং চুনার অঞ্চলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

গঙ্গার তীরবর্তী অবস্থানের কারণে চুনার দুর্গ একসময় সামরিক ঘাঁটি হিসেবেও ব্যবহৃত হত। ১৮৫৭ সালের ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামে এই দুর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। জানা যায়, সেই সময় ব্রিটিশ অফিসারদের এখানে বন্দি রাখা হত এবং পরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

4 chunar fort

চুনার দুর্গ ভ্রমণের সেরা সময়:

অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত শীতকালীন সময় চুনার দুর্গ পরিদর্শনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত, কারণ এই সময় আবহাওয়া মনোরম থাকে এবং দর্শনার্থীদের জন্য ভ্রমণ আরামদায়ক হয়।

চুনার দুর্গ খোলার সময় ও প্রবেশমূল্য:

খোলার সময়: প্রতিদিন সকাল ১০:০০ থেকে বিকাল ৫:০০ পর্যন্ত
প্রবেশমূল্য: কোনো প্রবেশমূল্য নেই, দর্শনার্থীরা বিনামূল্যে দুর্গটি পরিদর্শন করতে পারেন।

চুনার দুর্গ কিভাবে পৌঁছাবেন?

  • বিমানপথে: নিকটতম বিমানবন্দর লাল বাহাদুর শাস্ত্রী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, যেখান থেকে ট্যাক্সি বা বাস নিয়ে সহজেই চুনার দুর্গে পৌঁছানো যায়।
  • 🚆 রেলপথে: নিকটতম প্রধান রেলস্টেশন মির্জাপুর স্টেশন, যা ভারতের বিভিন্ন শহরের সঙ্গে সংযুক্ত।
  • 🛣 সড়কপথে: চুনার দুর্গ সড়কপথে ভালোভাবে সংযুক্ত, এবং এটি গাড়ি, ট্যাক্সি বা বাসের মাধ্যমে সহজেই পৌঁছানো যায়।

উপসংহার:
ইতিহাস, স্থাপত্য এবং অতীতকে জানার আগ্রহ থাকলে চুনার দুর্গ ভ্রমণ অবশ্যই করা উচিত। এই দুর্গ শুধুমাত্র একটি ঐতিহাসিক স্মারক নয়, এটি বিভিন্ন যুগের সংস্কৃতি ও যুদ্ধের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

4. রামনগর দুর্গ

রামনগর দুর্গ
Picture credit: incredibleindia.gov.in

রামনগর দুর্গ সম্পর্কে
রামনগর দুর্গ বারাণসীর অন্যতম চিত্তাকর্ষক স্থাপনা। যদিও বারাণসী শহরে আরও অনেক মনোরম স্থাপত্য বিদ্যমান, তবুও রামনগর দুর্গ তার অনন্য নকশা ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। প্রতি বছর শত শত পর্যটক এই দুর্গ পরিদর্শন করেন, বারাণসীর সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য। অতীতের বারাণসীকে জানার জন্য রামনগর দুর্গ ভ্রমণ করা এক অপরিহার্য অভিজ্ঞতা। বারাণসী শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে, গঙ্গার অপর পাড়ে এই ঐতিহাসিক দুর্গটি অবস্থিত।

রামনগর দুর্গের ইতিহাস

১৮শ শতকে মহারাজা বলবন্ত সিং এই দুর্গ-প্রাসাদটি নির্মাণ করেছিলেন। কথিত আছে, মহাভারত যুগে মহর্ষি বেদব্যাস রামনগরে বাস করতেন এবং ধ্যান সাধনা করতেন। তার স্মরণে এই দুর্গ নির্মিত হয়। তবে দুর্গের কিছু শিলালিপি ও লেখনীগুলি ১৭শ শতকের বলে মনে করা হয়।

১৮শ শতকে এখানে ভগবান রামের জীবন কাহিনির উপর ভিত্তি করে বহু নাটক পরিবেশিত হতো, যার ফলে এই স্থানের নাম হয় রামনগর। তার আগে, এই অঞ্চলটি স্থানীয়দের কাছে ব্যাস কাশী নামে পরিচিত ছিল।

উত্তর প্রদেশের ঐতিহাসিক দুর্গ
Picture credit: tempotravellerhire.in

রামনগর দুর্গ স্থাপত্যশৈলী

বারাণসীর রাজা কাশী নরেশ রামনগর দুর্গ নির্মাণ করেন এবং এটি দীর্ঘকাল ধরে রাজকীয় বাসভবন ও দরবার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। দুর্গটি ফিকে হলুদ রঙের চুনার বেলে পাথর দিয়ে নির্মিত। দুর্গটি উঁচু স্থানে অবস্থিত হওয়ার কারণে বন্যার হাত থেকে সুরক্ষিত থাকে।

দুর্গের ছাদে ওঠার জন্য একটি ছোট সিঁড়ি রয়েছে, যা দুইটি সাদা রঙের মিনার পর্যন্ত নিয়ে যায়। যখন মহারাজা দুর্গে উপস্থিত থাকতেন, তখন রাজপ্রাসাদের চূড়ায় পতাকা উত্তোলন করা হতো।

দুর্গের ভেতরে একটি মন্দির ও জাদুঘর রয়েছে।
🔹 বেদব্যাস মন্দির – মহাভারতের লেখক বেদব্যাসের উদ্দেশ্যে উৎসর্গিত এই মন্দির।
🔹 রামনগর দুর্গ জাদুঘর – এখানে প্রাচীন রাজকীয় সামগ্রী সংরক্ষিত রয়েছে, যেমন পুরাতন গাড়ি, পালকী, তলোয়ার, অ্যান্টিক বন্দুক, হাতির দাঁতের খোদাই করা শিল্পকর্ম এবং প্রাচীন ঘড়ি।
🔹 দুর্গা মন্দির, ছিন্নমস্তিকা মন্দির ও দক্ষিণমুখী হনুমান মন্দির – দুর্গের ভেতরে অবস্থিত জনপ্রিয় তীর্থস্থান।
🔹 দুর্গটি লাল বেলেপাথর দ্বারা নির্মিত, যা রাজকীয় স্থাপত্যশৈলীর পরিচায়ক।

দশেরা উৎসবের সময় দুর্গটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে সজ্জিত করা হয়, যা পুরো প্রাসাদকে এক অনন্য আভা প্রদান করে।

রামনগর দুর্গ ভ্রমণের সেরা সময়

শীতকাল (মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর) রামনগর দুর্গ ভ্রমণের জন্য সর্বোত্তম সময়, কারণ এই সময় আবহাওয়া মনোরম থাকে। এছাড়া, এই সময়ে বিভিন্ন স্থানীয় উৎসবও উদযাপিত হয়, যা ভ্রমণকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

রামনগর দুর্গ খোলার সময় ও প্রবেশমূল্য

সময়সূচি: প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
প্রবেশমূল্য:

  • ভারতীয়দের জন্য – ২০ টাকা
  • বিদেশিদের জন্য – ১৫০ টাকা

রামনগর দুর্গ কিভাবে পৌঁছাবেন?

  • বিমানপথে: রামনগর দুর্গের নিকটতম বিমানবন্দর লাল বাহাদুর শাস্ত্রী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বিমানবন্দর থেকে ট্যাক্সি বা বাস নিয়ে দুর্গে পৌঁছানো যায়।
  • 🚆 রেলপথে: নিকটতম প্রধান রেলস্টেশন হলো বারাণসী জংশন, যা ভারতের বিভিন্ন শহরের সঙ্গে সংযুক্ত।
  • 🛣 সড়কপথে: রামনগর দুর্গ সড়কপথে ভালোভাবে সংযুক্ত, এবং এটি গাড়ি, ট্যাক্সি বা বাসের মাধ্যমে সহজেই পৌঁছানো যায়।

উপসংহার
রামনগর দুর্গের ইতিহাস, স্থাপত্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমন্বয় এটি ভ্রমণের জন্য একটি আদর্শ স্থান করে তুলেছে। এটি পর্যটকদের অতীতে ফিরে যাওয়ার এবং বারাণসীর সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ দেয়।

5. এলাহাবাদ দুর্গ (প্রয়াগরাজ দুর্গ)

এলাহাবাদ দুর্গ
Picture credit: incredibleindia.gov.in

এলাহাবাদ দুর্গ, যা বর্তমানে প্রয়াগরাজ দুর্গ নামেও পরিচিত, উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ (পূর্বে এলাহাবাদ) শহরের একটি ঐতিহাসিক দুর্গ। এটি ১৫৮৩ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট আকবর নির্মাণ করেছিলেন। দুর্গটি যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত, যেখানে গঙ্গা ও যমুনা নদীর মিলনস্থল রয়েছে। এটি প্রাচীন ও মুঘল স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন। বলা হয়, সম্রাট আকবর এই স্থানের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে এলাহাবাদ দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন এবং এই মহানগরীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।

এলাহাবাদ দুর্গের ইতিহাস

এলাহাবাদ দুর্গ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক কাঠামো যা যুগের পর যুগ টিকে রয়েছে। এই দুর্গ মুঘল যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রয়াগরাজ শহরের বিবর্তনের অংশ হয়ে উঠেছে। ১৫৮৩ সালে সম্রাট আকবর যমুনার তীরে এই অসাধারণ দুর্গটি নির্মাণ করেন। এটি প্রয়াগরাজের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ, যা এর সূক্ষ্ম নকশা, চিত্তাকর্ষক স্থাপত্য ও অনবদ্য কারুকাজের জন্য বিখ্যাত। এক সময় মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই দুর্গটি আজ প্রয়াগরাজের ঐতিহাসিক সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এলাহাবাদ দুর্গের স্থাপত্যশৈলী

এলাহাবাদ দুর্গের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ এটি বহু ঐতিহাসিক ঘটনা ও সম্রাটদের সাক্ষী হয়ে রয়েছে। আকবর এই দুর্গটিকে মূলত একটি সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত দুর্গ হিসেবে নির্মাণ করেছিলেন, কারণ এটি গঙ্গা ও যমুনা নদীর সঙ্গমস্থলে অবস্থিত।

দুর্গের স্থাপত্যশৈলীতে মুঘল ও হিন্দু সংস্কৃতির মিশ্রণ দেখা যায়। এই মিশ্রণ আকবরের ধর্মীয় সহনশীলতা ও মিলিত সংস্কৃতির নীতির প্রতিফলন ঘটায়।

প্রয়াগরাজ দুর্গ
Picture credit: tempotravellerhire.in

এলাহাবাদ দুর্গের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য

  • পাতালপুরী মন্দির – দুর্গের অভ্যন্তরে অবস্থিত এটি একটি অন্যতম প্রাচীন মন্দির, যা পুরাণের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং বহু তীর্থযাত্রী এখানে আসেন।
  • অশোক স্তম্ভ – এটি একটি বেলেপাথরের স্তম্ভ যা মৌর্য শাসনামলের শিলালিপি বহন করে। এই স্তম্ভটি মূলত সম্রাট অশোক নির্মাণ করেছিলেন এবং পরবর্তীকালে এলাহাবাদে স্থানান্তর করা হয়।
  • জামা মসজিদ – দুর্গের ভেতরে অবস্থিত এই মনোরম স্থাপত্যশৈলীর মসজিদটি মুঘল আমলের ধর্মীয় বৈচিত্র্যের সাক্ষ্য বহন করে।
  • মুঘল উদ্যান – দুর্গের অভ্যন্তরে চতুর্ভুজ নকশার চারবাগ শৈলীর উদ্যান রয়েছে, যা মুঘল স্থাপত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
  • আকবরের প্রাসাদ – দুর্গের ভেতরে আকবরের প্রাসাদের কিছু ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, যা মুঘল স্থাপত্যশৈলীর সৌন্দর্য বহন করে। সম্রাট আকবর এলাহাবাদ সফরের সময় এখানে অবস্থান করতেন।

এলাহাবাদ দুর্গ ভ্রমণের সেরা সময়

অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত শীতকালে এলাহাবাদ দুর্গ পরিদর্শনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়, কারণ এই সময় আবহাওয়া আরামদায়ক থাকে এবং দর্শনীয় স্থানগুলোর অন্বেষণ সহজ হয়।

এলাহাবাদ দুর্গ খোলার সময় ও প্রবেশমূল্য

  • সময়সূচি: প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
  • প্রবেশমূল্য: কোনো প্রবেশ ফি নেই।

এলাহাবাদ দুর্গ কিভাবে পৌঁছাবেন?

  • বিমানপথে: এলাহাবাদ দুর্গের নিকটতম বিমানবন্দর হলো বামরাউলি বিমানবন্দর, যা প্রয়াগরাজ শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সেখান থেকে ট্যাক্সি বা বাসে দুর্গে পৌঁছানো যায়।
  • 🚆 রেলপথে: নিকটতম প্রধান রেলস্টেশন হলো প্রয়াগরাজ জংশন, যা ভারতের বিভিন্ন শহরের সঙ্গে সংযুক্ত।
  • 🛣 সড়কপথে: এলাহাবাদ দুর্গ সড়কপথে ভালোভাবে সংযুক্ত, এবং এটি গাড়ি, ট্যাক্সি বা বাসের মাধ্যমে সহজেই পৌঁছানো যায়।

উপসংহার
এলাহাবাদ দুর্গ শুধুমাত্র একটি ঐতিহাসিক স্থান নয়, এটি ভারতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের এক মূল্যবান নিদর্শন। ইতিহাস ও স্থাপত্যশিল্পের প্রতি আগ্রহ থাকলে এই দুর্গটি অবশ্যই ঘুরে দেখা উচিত। এটি শুধুমাত্র একটি ঐতিহাসিক ভ্রমণের স্থান নয়, বরং সংস্কৃতি, ধর্ম ও যুগের সংমিশ্রণের এক জীবন্ত দলিল, যা পর্যটকদের অতীতের সঙ্গে সংযুক্ত হতে ও স্থাপত্যশৈলীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে আমন্ত্রণ জানায়।

Leave a Comment